শরীরের বাড়তি ওজন বর্তমানে নারী-পুরুষ সবারই দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ। ওজন কমাতে কঠোর ডায়েট ও ব্যায়ামের বিকল্প কিছুই নেই। তবে ঠিকভাবে নিয়ম মেনে ডায়েট করার পরও অনেক সময় সেটি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেয় না। শত চেষ্টা করেও ওজন কমাতে পারেন না, মাসের পর মাস ডায়েট করছেন, তাতেও মিলছে না আশানুরূপ ফলাফল। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী কী কারণে আপনার ডায়েট কাজে লাগছে না:
১. নিজে নিজে অনেক খাবার কমানো
এটি ডায়েট কাজ না করার অন্যতম একটি কারণ। মনে রাখবেন, নিজে নিজে ডায়েট শুরু করে অতিরিক্ত কম খাবার খেয়ে বেশি দিন থাকা যায় না। কিছু ওজন কমার পর এত কম খাবার খেয়ে না থাকতে পারায়, ডায়েট করা আর হয়ে উঠে না। এতে ওজন আবার আগের জায়গায় চলে যায়। হুট করে খাবার কমিয়ে দিলে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় এবং বিপাক প্রক্রিয়ার ছন্দ নষ্ট হয়।
২. ডায়েটকালীন অন্যের সঙ্গে এটি নিয়ে আলোচনা
অনেক সময় দেখা যায়, ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে ডায়েট শুরু করার পর ব্যক্তিকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এতে যে ডায়েট করে, সে লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়তে পারে এবং ডায়েট করা বাদ দিয়ে আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারে। প্রতিটি শরীরের প্রয়োজন আলাদা, তাই অন্যের পরামর্শ আপনার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
৩. সময়মতো ডায়েটের ফলোআপ না করা
ডায়েটের পরামর্শ নিয়ে একটি ডায়েট এক মাসের জন্য মানার পরে ফলোআপের জন্য অনেকেই আর ডায়েটিশিয়ানের কাছে যান না। এতে ওজন কিছুটা কমে থেমে যায়। আর এতে অনেকে নিরাশ হয়ে ডায়েট ছেড়ে দেয়। অন্যদিকে ওজন না কমার হতাশায় সরে আসে ডায়েট থেকে। নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে ডায়েটিশিয়ান আপনার শরীরের পরিবর্তন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়েট প্ল্যানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারেন।
৪. দুর্বলতা ডায়েটের বড় বাধা
ডায়েটের আগে শারীরিক পরীক্ষা, বিশেষ করে পুষ্টি পরিমাপকগুলো পরীক্ষা না করিয়ে নিলে অথবা অতিরিক্ত কম পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার কারণে অল্প কিছু ওজন কমার পরই অনেকে দুর্বল হয়ে যায়। তখন শরীর আর সায় দেয় না ডায়েট করার। দুর্বল হয়ে গেলে পরিবারও আপনাকে বাধা দেবে ডায়েট করতে। এতে আপনার আর ডায়েট করা হয়ে উঠবে না। সুস্থভাবে ওজন কমাতে পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ অপরিহার্য।
৫. একই ডায়েট দিনের পর দিন অনুসরণ করা
নিজের স্বরচিত ডায়েট অথবা ডায়েটিশিয়ানের করে দেওয়া একটা ডায়েট যদি দীর্ঘ সময় ধরে করে যেতে থাকেন, তা আপনার শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করবে। এতে আপনার ত্বক ও চুলের ক্ষতি হবে। আর এই ক্ষতি মানতে না পেরে আপনি ডায়েট ছেড়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারেন। শরীরের প্রয়োজনে পরিবর্তন আসে, তাই ডায়েট প্ল্যানও সময়োপযোগী হওয়া উচিত।
এভাবে অনেকে ডায়েট শুরু করার পর কোনো না কোনো কারণে এটি আর কাজ করে না। তাই একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ মেনে ডায়েট করা এবং নিয়মিত ফলোআপে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি আপনাকে কাঙ্ক্ষিত ওজন লাভে সাহায্য করবে এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করবে।





