“মুসলিম হয়েও এ সব কী!”-উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরে গিয়ে ট্রোলের মুখে যশ-নুসরত

টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত ও চর্চিত জুটি নুসরত জাহান (Nusrat Jahan) এবং যশ দাশগুপ্ত (Yash Dasgupta)। বিশেষ করে নুসরতকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল-কটাক্ষ যেন নিত্যদিনের ঘটনা। তিনি মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও সব ধর্মের উৎসব সমানভাবে পালন করেন। নিজের বাড়িতে জন্মাষ্টমীর পুজো করা, অষ্টমীতে অঞ্জলি দেওয়া কিংবা দশমীতে শাঁখা-পলা পরে মাকে বরণ করা— এই সমস্ত কারণেই বারংবার কট্টরপন্থীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। যদিও এইসবে কান দিতে নারাজ অভিনেত্রী। বর্তমানে চলছে পবিত্র শ্রাবণ মাস, আর এই বিশেষ মাসেই উজ্জ্বয়িনীর বিখ্যাত মহাকালেশ্বর মন্দিরে মহাদেবের আরাধনা করতে পৌঁছলেন যশ ও নুসরত। আর সেখান থেকেই ছবি শেয়ার করতেই ফের সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলেন নায়িকা।
মহাকাল দর্শনে যশ-নুসরত
সোশ্যাল মিডিয়ায় মহাকালেশ্বর মন্দির দর্শনের বেশ কিছু সুন্দর মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন যশ দাশগুপ্ত। সেই ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নুসরতের পরনে রয়েছে সুন্দর গোলাপি রঙের সালোয়ার, সিঁথিতে উজ্জ্বল সিঁদুর এবং কপালে মাখানো মহাকালের ভক্তিভরা টিকা। এছাড়া উজ্জ্বয়িনীর ঐতিহাসিক সতীপীঠ হরসিদ্ধি মাতা-র মন্দিরেও পুজো দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। মন্দিরের দেওয়ালে আঁকা দেবাদিদেব মহাদেবের ছবির দুই পাশে দাঁড়িয়ে পোজ দিয়েছেন এই তারকা জুটি। ছবির ক্যাপশনে যশ লিখেছেন— ‘হর হর মহাদেব’।
ট্রোলড নুসরত জাহান
এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ভক্তদের প্রশংসার পাশাপাশি নেটিজেনের একটি অংশ নুসরতকে তীব্র আক্রমণ করতে শুরু করে। কমেন্ট বক্সে বইছে কটাক্ষের ঝড়।
এক নেটিজেন লিখেছেন, “একজন মুসলিম হয়ে কপালে এ সব কী লিখেছেন!” * আবার অন্য একজনের মন্তব্য, “এই সমস্ত নাটক বন্ধ হওয়া উচিত।” * কেউ কেউ আবার খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “আসলে নুসরত ঠিক কোন ধর্মকে মানেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়।”
যদিও এই সমস্ত কটাক্ষ বা নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে একটিও পালটা মন্তব্য করেননি নুসরত। যশের হাত ধরে মহাকাল ও হরসিদ্ধি মাতা দর্শন করে যে তিনি অত্যন্ত শান্তি পেয়েছেন, তা তাঁর হাসিমুখেই স্পষ্ট।
বিতর্ক ও নুসরতের দৃষ্টিভঙ্গি
নুসরত এর আগেও বহু সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিনি সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী এবং সব ধর্মকেই সমানভাবে সম্মান করেন। তবে বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না। ২০২১ সালে নিখিল জৈনের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ এবং সেই একই বছরে সন্তানের জন্ম দেওয়া নিয়ে নেটপাড়ায় কম শোরগোল হয়নি। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও পরবর্তীতে জন্ম শংসাপত্র থেকে স্পষ্ট হয় যে সন্তানের বাবা যশ দাশগুপ্ত। যদিও তাঁরা নিজেদের বিবাহিত বলেই দাবি করে আসছেন, তবে বিয়ের কোনো ছবি আজও প্রকাশ্যে আনেননি। এর আগে তিরুপতি বালাজি মন্দির দর্শন হোক কিংবা দুবাইয়ের মসজিদে ইদ পালন— নুসরত তাঁর নিজস্ব জীবনযাত্রার জন্যই বারবার খবরের শিরোনামে থেকেছেন।