দেড় কোটির চেক বাউন্স! মহমেডান ক্লাবের কড়া আইনি নোটিসে চরম বিপাকে সভাপতি হুমায়ুন কবির

গত কয়েক দিন ধরে বাংলা ক্রীড়ামহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে ঐতিহ্যবাহী মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবির বেশ কিছুদিন আগে ক্লাবের সমস্ত আর্থিক সংকট একাই মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় এবার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দিন তিনেক আগে হুমায়ুন কবিরের পাঠানো ৫০ লক্ষ টাকার মোট তিনটি চেক—যার সম্মিলিত মূল্য দেড় কোটি টাকা—ব্যাঙ্কে বাউন্স করে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই নওদাঁর বিধায়ক ও ক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হন কর্তারা। যদিও তিনি সেই সময় সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে এবার বড়সড় ও কঠিন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মহমেডান ক্লাব ম্যানেজমেন্ট।

ক্লাবের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবিরকে একটি কঠোর আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসের মূল বিষয়বস্তু হল, যেভাবে তিনি কথা দিয়েও কথা রাখেননি, তাতে ক্লাবের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে তাঁর অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। মহমেডানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাকে পরিশোধ করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়া হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাই দায়ের করা হবে।

এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম আক্রম অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “উনি আগে অনেক বড় বড় কথা বললেও কাজের কাজ কিচ্ছু করেননি। উনি এখন পুরোপুরি ফেঁসে গিয়েছেন। এটা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা মহমেডান ক্লাব। বাধ্য হয়েই আমাদের আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। চেক দিলেও তা বাউন্স করে গিয়েছে। উনি অসৎ উদ্দেশ্যে এসেছিলেন বলেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এবার পুলিশ আর কোর্ট বিষয়টি বুঝবে।” হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্য ও আচরণে যে ক্লাব কর্তারা কতটা তিতিবিরক্ত, তা ওয়াসিম আক্রমের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি আরও যোগ করেন, “উনি টাকা পয়সা না দিয়ে মুর্শিদাবাদে বসে বড় বড় ডায়লগ দিচ্ছেন। বলছেন আমাদের ক্লাব থেকে বের করে দেবেন। সবকিছু কি এতই সোজা নাকি? এটা মহমেডান ক্লাব, ওঁর জেলার রাজনীতি নয়। সাহস থাকলে উনি ক্লাবে আসুন, তারপর সামনাসামনি কথা হবে। আমরা ওঁকে বারবার ক্লাবে ডাকলেও উনি না এসে শুধু দূর থেকেই কথা বলছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে ওঁকে জেলেই যেতে হবে।”

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ১৫ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের সেই টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারার ফলেই মূলত যাবতীয় জটিলতা ও এই আইনি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ক্লাবটি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গজল জাফরকে ক্লাবের অস্থায়ী সভাপতি পদে নিযুক্ত করেছে ম্যানেজমেন্ট। এখন দেখার বিষয় হল, আগামী ১৫ দিনের ডেডলাইনের মধ্যে হুমায়ুন কবির বকেয়া অর্থ পরিশোধ করে পরিস্থিতি সামাল দেন, নাকি শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে কেন্দ্র করে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক দানা বাঁধে। সেই দিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের।