জেপিএসসি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে টানা ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ! উত্তাল ঝাড়খণ্ডে মোড়ল কে?

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন নিভতে না নিভতেই এবার ঝাড়খণ্ডে শুরু হয়েছে চরম ছাত্র আন্দোলন। রাজধানী রাঁচির ঐতিহাসিক জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে গত প্রায় ১০ দিন ধরে শত শত ছাত্রছাত্রী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি)-এর ওএমআর শিট বিতর্ক, ১৪তম জেএসএসসি-সিজিএল এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফুঁসে উঠেছেন পরীক্ষার্থীরা। এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ সংস্থাগুলিতে আমূল সংস্কারের দাবি তুলেছেন তাঁরা। সংবিধানের কপি হাতে নিয়ে আন্দোলনরত এই তরুণ-তরুণীরা ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেরও নৈতিক সমর্থন লাভ করতে শুরু করেছেন।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি। মামলার গুরুত্ব বুঝে সিআইডি দল রাজ্যজুড়ে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি সিআইডি কর্মকর্তারা পরীক্ষার কথিত অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতেকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। এর আগেও ২৮ জুলাই নয় ঘণ্টা এবং ২৯ ও ৩১ জুলাই আট ঘণ্টা করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। ছাত্রছাত্রীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—পরীক্ষায় দুর্নীতির সিবিআই তদন্ত, অবিলম্বে ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় নতুন পরীক্ষা আয়োজন, নির্দিষ্ট পরীক্ষার ক্যালেন্ডার প্রকাশ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কারাগারে পাঠিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার নেপথ্যে থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
তবে দীর্ঘমেয়াদী এই আন্দোলনের অন্দরে মতপার্থক্য এবং বিভাজনের ছবিও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। রাঁচির মুন্ডা স্টেডিয়ামের ভেতরেই ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একাধিক তাঁবু খাটানো হয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের কারণে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দল আলাদা হয়ে গেছে। যদিও সব পক্ষের মূল দাবি এক, তবুও আন্দোলনের নেতৃত্ব, কর্মপদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে তিনটি আলাদা সংগঠন বিধানসভা ঘেরাও করার জন্য তিনটি পৃথক তারিখ ঘোষণা করেছে। যেমন—জেপিএসসি-জেএসএসসি ক্যান্ডিডেট জাস্টিস ফোরামের নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো গত ২৫ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের সত্যাগ্রহ শুরুর পর ২ আগস্ট থেকে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী ফ্রন্ট আগামী ৬ আগস্ট বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে এবং রাজ্যের ২৪টি জেলা থেকে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এতে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম ফোরাম ঘোষণা করেছে যে তারা ৬ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ১০ আগস্ট বিধানসভা অভিযানের মাধ্যমে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করবে। পাশাপাশি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) জানিয়েছে যে তাদের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা ৭ আগস্ট রাঁচিতে এসে একটি পৃথক বিধানসভা পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন। এই চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), এজেএসইউ এবং জেএলকেএমসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছাত্রদের এই বিক্ষোভে নৈতিক সমর্থন জুগিয়েছে। এমনকি বিজেপির যুব মোর্চা ও এজেএসইউ জেপিএসসি কার্যালয় ঘেরাও ও লোক ভবন অভিমুখে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আন্দোলন সমাপ্ত করতে রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই একটি উচ্চ-পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা বিবেচনা করছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।