‘NPCI-তে ভাঙনের জল্পনা!’-মোদীর বৈঠক এড়িয়ে ইউসুফ-আবু তাহেররা কোথায়? মুখ খুললেন সুদীপ

তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে গঠিত হওয়া ‘এনসিপিআই’ (NCPI) শিবিরে কি ফাটল ধরতে শুরু করেছে? এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতি থেকে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই প্রশ্নই। কারণ, এনসিপিআই-এর ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে ৩ জন— খলিলুর রহমান, আবু তাহের ও ইউসুফ পাঠান— এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে लगातार অনুপস্থিত থাকছেন। আজও তাঁদের দেখা মেলেনি। আর এই পরিস্থিতিতে জল্পনা আরও বাড়িয়ে আজ দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মোদীর বৈঠকে সুদীপ-কাকলি, অনুপস্থিত ৩ সাংসদ

গত মঙ্গলবার এনডিএ-র সাপ্তাহিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে বসে নজর কেড়েছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আর আজ, মঙ্গলবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঠিক একই সারিতে বসেছেন এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু একদিকে যখন সুদীপ-কাকলিরা এনডিএ-র সঙ্গে চরম ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখছেন, ঠিক তখনই খলিলুর রহমান, আবু তাহের ও ইউসুফ পাঠানের মতো তিন সাংসদের অনুপস্থিতি জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে। এর আগে এই তিন সাংসদকে মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখা যাওয়ায় সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছিল।

কী দাবি করছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার?

দলের অন্দরে ভাঙনের এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপিআই নেতৃত্ব। আজ এনডিএ-র মিটিংয়ে যোগ দিতে যাওয়ার মুখে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি করেন:

“আমাদের শিবিরে কোনো ভাঙন নেই। দলের সবাই একজোট রয়েছেন।”

পাশাপাশি, এনসিপিআই-এর মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারও দাবি করেছেন যে, ২০ জনের প্রত্যেকেই তাঁদের দলেই আছেন এবং কেউ দল ছেড়ে যাচ্ছেন না। উলটো দাবি করে তিনি বলেন, আরও এক-দুজন নতুন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, ফলে আগামী দিনে তাঁদের শিবির আরও বড় হবে।

কুণাল ঘোষ ও সৌগত রায়ের বিস্ফোরক দাবি

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বড় দাবি করা হয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে, এনসিপিআই শিবিরের অন্তত ৬ জন সাংসদ বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন।

এর আগে সৌগত রায়ও মন্তব্য করেছিলেন যে, দল ছাড়ার পর অনেকেই বুঝতে পেরেছেন যে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই হয়ে এনডিএ-র জোটে যাওয়াটা সঠিক হয়নি, বিশেষ করে মুসলিম সাংসদদের অনেকে এই বিষয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন।

শুভেন্দুর বৈঠক ও বিজেপির সমীকরণ

এই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়দের মতো হেভিওয়েট নেতাদের কি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দলে টেনে নেবে বিজেপি? আর যদি তা হয়, তবে খলিলুর রহমান, আবু তাহের ও ইউসুফ পাঠানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঠিক কী হবে— তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আজকের দিল্লি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই জট কতটা কাটাতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।