মরা বকুল গাছের বেদীতে হঠাৎ কার পায়ের ছাপ! বিষ্ণুপুরে শ্রীকৃষ্ণের উপস্থিতি দাবিতে উপচে পড়ল ভিড়

কয়েকশো বছরের পুরনো এক প্রাচীন বকুল গাছ মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে শূন্যই পড়েছিল তার বাঁধানো বেদী। কিন্তু আজ একেবারে সাত সকালে সেই শূন্য ও মৃত বেদীতে হঠাৎই উপচে পড়ল হাজারও মানুষের ভিড়। বেদীর দিকে চোখ পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষ রীতিমতো চমকে ওঠেন। কেউ হাতজোড় করে ভক্তিভরে ছুটে গেলেন, কেউ আবার মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে রাখলেন সেই দৃশ্য। মরা গাছের সিমেন্ট বাঁধানো বেদীতে খোদ কার পায়ের ছাপ অঙ্কিত রয়েছে—এই রহস্যকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক বিষ্ণুপুর শহরজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মাধবগঞ্জ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী রাধা মদন গোপাল জিউয়ের মন্দির সংলগ্ন চত্বরেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল ওই প্রাচীন বকুল গাছটি। গাছটিকে ঘিরে পাকা করে একটি উঁচু বেদী বাঁধানো ছিল। কিন্তু সম্প্রতি গাছটির মৃত্যু হওয়ায় সেই বেদীটি দীর্ঘকাল ফাঁকাই পড়েছিল। অন্যান্য দিনের মতো এদিন সকালেও যখন ভক্তরা ওই মন্দিরে নিয়মিত নাম সংকীর্তন করতে উপস্থিত হন, তখনই তাঁদের নজর কাড়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য। তাঁরা দেখতে পান, সেই শূন্য বেদীর গায়ে বেশ কয়েকটি স্থানে স্পষ্ট হয়ে রয়েছে লাল চন্দনের সুদৃশ্য পায়ের ছাপ। মুহূর্তের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় হইচই পড়ে যায়।
এই পায়ের ছাপগুলি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র চরণচিহ্ন—এই unwavering আস্থায় ভর করে সকাল থেকেই বেদীটিকে ঘিরে কৌতূহলী ও উৎসাহী মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মাধবগঞ্জের সেই শূন্য বেদীকে ঘিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রবীণ ও ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, গভীর রাতে ওই মৃত বকুল গাছের সুশীতল তলায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তাঁর সখীদের নিয়ে রাসলীলা বা দিব্যলীলা করতে আসেন। তাই হঠাৎ করে সেখানে লাল চন্দনের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই পুরনো ধর্মীয় বিশ্বাস আরও বেশি পোক্ত ও স্পষ্ট হয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে লোকমুখে এই অলৌকিক ঘটনার খবর সারা বিষ্ণুপুর শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং দলে দলে মানুষ সেখানে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, পরম ভক্তিতে গদগদ হয়ে বহু মানুষ সেই বেদীর সামনে নতজানু হয়ে প্রণাম করছেন, আবার অনেকেই অলৌকিক আশীর্বাদ প্রাপ্তির আশায় বেদীর ধুলো পরম আদরে কপালে ও গায়ে মাখছেন। তবে স্থানীয়দের অনেকে দাবি করছেন যে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাকি ওই লাল চন্দনের পায়ের ছাপগুলি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। যদিও এই রহস্যময় পায়ের ছাপগুলি আদতে কারা তৈরি করেছেন কিংবা এর পিছনে আসল সত্য কী, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বা প্রামাণিক তথ্য সামনে আসেনি। তবুও এই অলৌকিক গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে।