‘সে অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়’,-ইয়ামালের সঙ্গে VIRAL ছবি নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

ফুটবল বিশ্বের এক অকল্পনীয় গল্পের শেষ অধ্যায় রচিত হতে চলেছে আসন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে। একদিকে ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে স্পেনের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল। ২০০৭ সালে তোলা একটি ভাইরাল ছবি আজ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের এক অনন্য উপাখ্যানে পরিণত হয়েছে। সেই ছবিটি নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন খোদ মেসি।
অবিশ্বাস্য সেই ছবি ও পটভূমি: ২০০৭ সালে ইউনিসেফ ও স্থানীয় সংবাদপত্রের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছিল। তৎকালীন বার্সেলোনা তারকা মেসি তখন তরুণ, আর লামিনে ইয়ামাল ছিলেন এক শিশু। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত জানান, লটারির মাধ্যমে জয়ী হয়ে ইয়ামালের পরিবার ক্যাম্প ন্যুতে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছিল। খোদ মেসি এই মুহূর্তটিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “তখন সে বাচ্চা ছিল, আর আজ আমরা দুজনেই বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি—এটা সত্যিই সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও রোমাঞ্চকর।”
ফাইনালের আগে মেসির বার্তা: বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পেনের তরুণ উইঙ্গারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মেসি। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে সে তার সেরাটা খেলতে না পারে।” ১৯ বছরের এই তরুণের সামনে যে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পড়ে আছে, তা স্বীকার করে মেসি তার সাফল্য কামনা করলেও, শিরোপা জেতার জন্য লড়াইয়ে কোনো ছাড় দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
ফুটবল মহলে হইচই: ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই প্রথমে এটিকে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি বলে ভ্রম করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো থেকে শুরু করে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা—সকলেই এই ঘটনাকে ফুটবলের ইতিহাসে এক বিরল সমাপতন বলে মনে করছেন।
২০১৪, ২০২২-এর পর ২০২৬-এ ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন মেসি। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি রয়েছেন শীর্ষে। অন্যদিকে, স্পেনও তৈরি তাদের তারুণ্যের শক্তি দিয়ে আর্জেন্টিনাকে টেক্কা দিতে। রবিবার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন এই দুই প্রজন্মের দুই তারকা মুখোমুখি হবেন, তখন তা শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ফুটবলের এক চিরকালীন গল্পের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।