ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র কি ধ্বংসের মুখে? ট্রাম্পের নতুন সামরিক ছক ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এখন এক নতুন মোড়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। সম্প্রতি অ্যাক্সিওসের (Axios) এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের অভ্যন্তরীণ সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে। এরই অংশ হিসেবে ইজরায়েলে অতিরিক্ত কয়েক ডজন আকাশপথে জ্বালানি ভরার বা ‘এরিয়াল রিফুয়েলিং’ (Aerial Refueling) বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে একাধিক সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে মার্কিন হামলার পরিধি মূলত হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সীমাবদ্ধ থাকলেও, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী তা ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা। মার্কিন সামরিক কৌশলবিদদের মূল উদ্দেশ্য—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং দেশটির ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain) স্থাপনাটিকে অকেজো করে দেওয়া।
ট্রাম্প প্রশাসন এমন এক মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি করতে চাইছে, যার ফলে ইরান বাধ্য হয়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্তাবলী মেনে নিতে বাধ্য হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ট্রাম্প অত্যন্ত সতর্ক। তিনি ধারাবাহিকভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই সামরিক প্রস্তুতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো ‘এরিয়াল রিফুয়েলিং’ বিমান। বর্তমানে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণ ইজরায়েলের রামন বিমানবন্দরে আমেরিকার প্রায় ৬০টি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই বিশেষ বিমানগুলো যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানকে আকাশে জ্বালানি জুগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াইয়ের সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, দীর্ঘস্থায়ী এবং সুদূরপ্রসারী বিমান হামলার জন্য এই বিমানগুলোই হবে মার্কিন শক্তির মূল কারিগর।
বিশ্বের ‘হৃদস্পন্দন’ খ্যাত এই অঞ্চলে যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়, তবে তার প্রভাব কেবল ওই দেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে দিতে পারে। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—সেটিই এখন কোটি কোটি মানুষের উদ্বেগের কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনই ঠিক করে দেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ চিত্র।