বাদল অধিবেশনের আগেই সংসদে মহানাটক! সর্বদল বৈঠক বয়কট বিরোধী শিবিরের, কেন এই ক্ষোভ?

বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিনই সংসদীয় সর্বদলীয় বৈঠক ঘিরে তৈরি হলো চূড়ান্ত উত্তেজনা। রীতি মেনে সরকার এই বৈঠকের আয়োজন করলেও, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল রাজনৈতিক দড়ি টানাটানিতে। এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়ে বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট করলেন তৃণমূল কংগ্রেসসহ গোটা বিরোধী শিবিরের সাংসদরা।
ঠিক কী ঘটেছিল বৈঠকে? বৈঠকের টেবিল অফিসের দেওয়া তালিকায় এনসিপিআই নামে একটি দলের নাম এবং তাদের ২০ জন সাংসদকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলসহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সাংবাদিকদের বলেন, “যাদের দলবদল বা সংযুক্তি স্পিকার এখনও অনুমোদন করেননি, সেই তথাকথিত বিদ্রোহী সাংসদদের কোন যুক্তিতে আমন্ত্রণ জানানো হলো? ৯১তম সংবিধান সংশোধনের পর আলাদা কোনো ‘ব্লক’ গঠনের অবকাশ নেই। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, বাম দল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতো দলগুলো তৃণমূলের এই প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। যদিও ওয়াকআউটটি ছিল প্রতীকী এবং কিছু সময় পর বিরোধী সাংসদরা ফের বৈঠকে যোগ দেন।
বিতর্কের কেন্দ্রে এনসিপিআই ও স্পিকারের ভূমিকা সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠি পাঠালেও, লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা এখনও এই এনসিপিআই-কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেননি। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, নিয়ম মেনেই তাঁরা স্পিকারের কাছে নতুন দল হিসেবে আবেদন জানিয়েছেন এবং বর্তমানে বিষয়টি স্পিকারের বিচারাধীন। এই যুক্তিতেই সরকার পক্ষের সাফাই, “সংসদ সবার জন্য। কাউকে আমন্ত্রণ না জানানো কি সম্ভব? সবার সাথে ঐকমত্যে পৌঁছানোই সরকারের লক্ষ্য।”
বাদল অধিবেশনের উত্তাপ রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবারের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সরকার মূলত ডিলিমিটেশন বিল, নারী সংরক্ষণ বিল এবং বিশেষ কিছু অপসারণ বিল নিয়ে মরিয়া। অন্যদিকে, বিরোধীরাও মুদ্রাস্ফীতি, বিদেশ নীতি, দুর্নীতি এবং ই-২০ বিতর্কের মতো ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছে।
বৈঠকের শুরুতে বিদ্রোহী সাংসদরা মূল তৃণমূল থেকে আলাদা বসার দাবি জানালে, কর্তৃপক্ষ তাঁদের জন্য আলাদা বেঞ্চের ব্যবস্থাও করে। অধিবেশন শুরুর আগেই এমন নাটকীয় পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, আসন্ন বাদল অধিবেশন যে বেশ উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।