হোয়াটসঅ্যাপে আর নম্বর শেয়ারের দরকার নেই! ইউজারনেম ফিচারে কি বড় চমক থাকছে জানুন

বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে হোয়াটসঅ্যাপ তার প্ল্যাটফর্মে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচারটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করল। বিশ্বের একাধিক দেশে ইতিমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ব্যবহারকারীরা এই ফিচারের সুবিধা পাওয়া শুরু করেছেন। তবে ভারতের প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এই মুহূর্তে একটি হতাশাজনক খবর রয়েছে। আপাতত ভারত সরকারের কঠোর নির্দেশ ও নিরাপত্তার বিধিনিষেধের কারণে এই ফিচারটি ভারতে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সবুজ সংকেত মিললেই তবেই দেশের ব্যবহারকারীরা এই বিশেষ সুবিধার নাগাল পাবেন।
প্রযুক্তি বিষয়ক জনপ্রিয় পোর্টাল ‘WAbetainfo’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক দেশে ফিচারটি রোলআউট করা হলেও একে এখনও ‘গ্লোবাল লঞ্চ’ বলা যাচ্ছে না। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঞ্চলে এটি পৌঁছে দিচ্ছে।
এই ফিচারের মূল সুবিধা কী?
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে চ্যাট করতে গেলে ফোন নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক। এই নতুন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর গোপন রেখেই চ্যাট করতে পারবেন। শুধুমাত্র একটি ইউনিক ‘ইউজারনেম’ শেয়ার করলেই অপরপ্রান্তের ব্যক্তি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। যারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন বা বারবার ফোন কলে বিরক্ত হতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। টেলিগ্রামের ক্ষেত্রে এই ফিচার বহু বছর ধরে জনপ্রিয়, এবার হোয়াটসঅ্যাপ সেই একই পথে হাঁটল।
ভারতে কেন এখনো চালু হলো না?
হোয়াটসঅ্যাপ ইতিমধ্যে ব্যবহারকারীদের তাদের পছন্দমতো ইউজারনেম রিজার্ভ বা বুক করার অপশন দিচ্ছে, যাতে অন্য কেউ সেই নাম ব্যবহার করতে না পারে। তবে ভারত সরকারের উদ্বেগ রয়েছে অন্য জায়গায়। সরকারি মহলের আশঙ্কা, এই ইউজারনেম ফিচার চালু হলে দেশে সাইবার প্রতারণা বা স্ক্যামের ঘটনা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে পরিচয় গোপন রাখা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাহায্য করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এই সমস্ত ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে মেটা (Meta)-র কাছে ভারত সরকার একগুচ্ছ প্রশ্ন রেখেছিল এবং নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছিল। মেটা ইতিমধ্যেই সেই সব প্রশ্নের উত্তর সরকার পক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মেটার দেওয়া উত্তরে ভারত সরকার কতটা সন্তুষ্ট হয়। যদি প্রযুক্তি জায়ান্টটির ব্যাখ্যায় প্রশাসন আশ্বস্ত হয়, তবেই ভারতের বাজারে এই ইউজারনেম ফিচার চালু হওয়ার সবুজ সংকেত মিলবে। আপাতত ফিচারটির গ্লোবাল রোলআউটের খবরের মাঝেই ভারতীয় ব্যবহারকারীদের আরও কিছুটা ধৈর্য ধরার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, সরকারি অনুমতি মিললেই ডিজিটাল দুনিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন অধ্যায়ে যুক্ত হবেন দেশের কোটি কোটি ব্যবহারকারী।