“দইয়ের পর আইসক্রিমও চাই!”-বাংলায় শিল্পায়নের বড় প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যে বিনিয়োগের আবহে অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততাকে টেনে আনলেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার হাওড়ার সাঁকরাইলে আমূলের নতুন অত্যাধুনিক দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে এসে নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী চিঠি লিখলে বলতেন গুজরাতকে রাজ্যে ঢুকতে দেব না।” রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সমবায় ভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর এদিন তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র সাঁকরাইলের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা উৎপাদন ক্ষমতার নিরিখে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে দাবি আমূল কর্তৃপক্ষের। কয়েকশো কোটি টাকা বিনিয়োগের এই কারখানাটি কেবল পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধশিল্পে গতি আনবে না, বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। অমিত শাহের মতে, বাংলার মিষ্টি দই দেশের খাদ্য সংস্কৃতির গর্ব। নতুন এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে রাজ্যের দই দেশের কোণায় কোণায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
শুভেন্দুর নতুন প্রস্তাব: এবার চাই আইসক্রিম কারখানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পকে রাজ্যের কৃষি ও দুগ্ধভিত্তিক অর্থনীতির ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেবল দই নয়, রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মুখ্যমন্ত্রী আমূল কর্তৃপক্ষকে রাজ্যে আরও দুটি আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গেও অনুরূপ একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সমবায় মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। দুগ্ধচাষিদের আর্থিক উন্নয়ন এবং পরিবহণ-প্যাকেজিং শিল্পে নতুন জোয়ার আসবে।”
অর্থনীতিতে সমবায় মডেলের জয়গান অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী—উভয় নেতাই এদিন গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করেন। তাঁদের মতে, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ এবং আধুনিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আমূলের এই মডেল রাজ্যের দুগ্ধচাষিদের জন্য এক স্থায়ী ও লাভজনক বিপণন ব্যবস্থা তৈরি করবে।
শিল্প মহলের একাংশের মতে, সাঁকরাইলের এই প্রকল্পটি বাংলার সংগঠিত দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে জাতীয় স্তরে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। রাজনীতির মঞ্চে তর্জা চললেও, শিল্পায়নের এই উদ্যোগ রাজ্যের অর্থনীতির জন্য এক আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।