হিন্দু ছাত্রকে ‘কলমা’ পড়ার হোমওয়ার্ক! স্কুলের অন্দরেই কি ধর্মীয় চাপ?

হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক হিন্দু ছাত্রকে জোরপূর্বক ‘কলমা’ পড়ার হোমওয়ার্ক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
কী ঘটেছিল? ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (চারমিনার জোন) খারে কিরণ প্রভাকর জানিয়েছেন, গত ১৫ জুলাই ওই শিক্ষিকা দ্বিতীয় শ্রেণির ২৫ জন পড়ুয়াকে হোমওয়ার্ক হিসেবে ‘কলমা’ মুখস্থ করতে নির্দেশ দেন। ক্লাসে মাত্র একজন হিন্দু পড়ুয়া ছিল। ওই ছাত্রের পিসি স্কুলের ডায়েরি চেক করার সময় বিষয়টি নজরে আনেন। তিনি দ্রুত স্কুলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের অধ্যক্ষ তাঁদের জানান যে, এটি একটি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় নির্দেশ। এই ঘটনা সামনে আসতেই অভিভাবকরা স্কুলের এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হন।
পুলিশি পদক্ষেপ: ছাত্রের পিসির অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষিকা ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারা (ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় আবেগে আঘাত) এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনের ৭৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি স্কুলের নিজস্ব শিক্ষানীতিরও পরিপন্থী।
রাজনৈতিক বিতর্ক: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনগুলোর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) স্কুলটির সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করলেও, বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি।
অভিভাবকদের একাংশের মতে, ধর্মীয় বিষয় ব্যক্তিগত পছন্দের হওয়া উচিত, তা কোনোভাবেই জোর করে হোমওয়ার্ক হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া কাম্য নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সব পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখছে।