সলমনের পর এবার আমির? বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় সুপারস্টার, ‘পরিণতি ভোগের’ হুমকি ভাইরাল

বলিউডের অন্দরে ফের গ্যাংস্টার ত্রাস। সলমন খানের পর এবার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি নিশানায় সুপারস্টার আমির খান। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর পোস্টকে কেন্দ্র করে গোটা বিনোদন জগতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামক এক ব্যক্তি এই খুনের হুমকি দিয়েছে। যদিও পোস্টটির সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, তবুও এই ঘটনায় আমির খানের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ভক্তমহল।
কী রয়েছে সেই ভাইরাল পোস্টে?
পোস্টটিতে আমির খানকে লক্ষ্য করে চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি, আমির খান দেশে ‘লাভ জিহাদ’-এর মতো বিষয়কে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও সনাতন ধর্মের বিরোধী। হুমকি দিয়ে খোলাখুলি লেখা হয়েছে, “আমির খানের মতো মানুষদের আমরা সহ্য করব না। খুব শীঘ্রই তাঁকে পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।” একইসাথে যারা এই ধরনের কাজকে সমর্থন করছে, তাদেরও চুপ করিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে এক কিশোরীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা টেনে এনে রাজনৈতিক নেতাদের একাংশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং একটি ভয়ার্ত ভয়েস নোট প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মুম্বই পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই মুহূর্তে বড় স্বস্তির খবর হলো, অভিনেতা বা তাঁর টিমের তরফ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ নথিভুক্ত হলেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কেন এই গ্যাংয়ের নিশানায় তারকারা?
বলিউডে গ্যাংস্টারদের দাপট নতুন নয়। বিশেষ করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সলমন খানের দীর্ঘদিনের বিরোধ জগদ্বিখ্যাত। ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার মৃগ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের রোষানলে পড়েন সলমন। পরবর্তীতে সিধু মুসেওয়ালার হত্যার দায় স্বীকার এবং এপ্রিলে সলমনের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায় এই গ্যাংয়ের নাম উঠে আসে। এমনকি বাবা সিদ্দিকির খুনের ঘটনার নেপথ্যেও সলমন-ঘনিষ্ঠতাকে বড় কারণ হিসেবে সামনে এনেছিল এই গ্যাং।
আমির খানের মতো শান্ত স্বভাবের অভিনেতাকে এইভাবে খুনের হুমকি দেওয়া, বলিউডে নতুন করে নিরাপত্তার আবহকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আপাতত গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন, তবে এই ঘটনায় বলিউডের অন্দরে যে নতুন করে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে, তা বলাই বাহুল্য।