শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গীকে ঝাঁঝরা করল দুষ্কৃতীরা! মমতার মেয়াদ শেষের রাতেই কি তবে ৩৫৬ ধারা?

বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় এক ভয়াবহ শ্যুটআউটে প্রাণ হারালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রাঠ। কালো স্করপিও গাড়ির ভিতর তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে অন্তত চার রাউন্ড গুলি চালায় বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা। তিনটি গুলি বুক ও মাথা ফুঁড়ে দেয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড এমন এক সন্ধিক্ষণে ঘটল, যখন পশ্চিমবঙ্গ এক চরম প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

৭ মে ২০২৬—অর্থাৎ আজই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকারের মেয়াদ। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে একটি বিশেষ তথ্যে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেননি। রাজ্যপালও তাঁকে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ছাড়পত্র দেননি। ফলে রাজ্যে কার্যত কোনও নির্বাচিত সরকারের অস্তিত্ব নেই। এই শূন্যতার মাঝেই শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ খুনের ঘটনা কেন্দ্রের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

নয়াদিল্লিতে ইতিমধ্যেই বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের দাবি, রাজ্যে সাংবিধানিক যন্ত্র সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বাংলার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটপর্বে মোতায়েন হওয়া প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী এখনও রাজ্যে অবস্থান করছে। মঙ্গলবারই নির্বাচন কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও, খোদ নেতার আপ্তসহায়ক খুনে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসানের পর এই রক্তক্ষয়ী পালাবদল বাংলাকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy