বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কেরালায় বাম জোটের অন্দরে এখন বইছে ঝোড়ো হাওয়া। পরাজয়ের গ্লানি মুছে বিধানসভায় শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে মরিয়া সিপিআই(এম)। আর এই আবহে সবার নজর এখন একটিই প্রশ্নের দিকে— বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ব্যাটন কার হাতে উঠতে চলেছে? বুধবারের সচিবালয় বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, অধিকাংশ সদস্যই মনে করছেন এই কঠিন সময়ে অভিজ্ঞ পিনারাই বিজয়নই দলের কাণ্ডারি হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি।
বিধানসভায় দলের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় চাপে রয়েছে এলডিএফ জোট। কে এন বালাগোপাল এবং সাজি চেরিয়ানের মতো হেভিওয়েট নেতারা মনে করছেন, একদিকে ইউডিএফ-এর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং অন্যদিকে বিজেপির আগ্রাসী উপস্থিতির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে বিজয়নের মতো পোড়খাওয়া নেতার বিকল্প নেই। তবে সূত্রের খবর, বিজয়ন যদি নিজে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, তবেই বিকল্প হিসেবে কে এন বালাগোপালের নাম ভাবা হবে। এমনকি পিনারাইকে দলনেতা এবং বালাগোপালকে উপনেতা করে একটি মিশ্র ফর্মুলা তৈরির আলোচনাও জোরালো হচ্ছে।
তবে সিপিএম যখন বিজয়নকে নিয়ে এগোতে চাইছে, তখন জোটসঙ্গী সিপিআই-এর অন্দরে কিন্তু সুর কিছুটা ভিন্ন। দলের সাংসদ সন্তোষ কুমার প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এই হার অভাবনীয় এবং লজ্জাজনক। আন্দোলনের জন্য এখন নতুন মুখ প্রয়োজন। শুধু স্লোগান নয়, আমাদের একজন নতুন বিরোধী দলনেতা এবং উপনেতা প্রয়োজন যারা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে পারবেন।”
সিপিআই-এর রাজ্য কমিটির বৈঠকেও বিজয়নের কাজের ধরণ এবং বিভিন্ন সময়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা হয়েছে। অনেকের মতেই, বিজয়নের ‘একনায়কসুলভ’ আচরণ জোটের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। যদিও রাজ্য সম্পাদক বিনয় বিশ্বম জল মাপতে গিয়ে জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা সিপিআই(এম)-এর ব্যক্তিগত অধিকার, সেখানে তাঁরা সরাসরি নাক গলাবেন না। তবে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক হিসেবে সিপিআই উপনেতার পদটি নিজেদের কবজায় রাখতে চায়। সব মিলিয়ে কেরালার রাজনীতিতে বামেদের পরবর্তী রণকৌশল কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





