মোদী সরকারের নতুন চালে বিপাকে নির্বাচন কমিশন? সুপ্রিম কোর্টে শুরু টানটান শুনানি!

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) রাখা হবে কি না—এই স্পর্শকাতর এবং ঐতিহাসিক আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হলো শীর্ষ আদালতে। বুধবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার আবেদন জানিয়েছিল যে, বর্তমানে শবরীমালা মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শুনানি চলায় এই মামলাটি যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই বিষয়টি “সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ”।

আসল বিবাদ কোথায়?
এতদিন পর্যন্ত ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করত। সেই কমিটিতে থাকতেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কিন্তু ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন আইন প্রণয়ন করে প্রধান বিচারপতিকে সেই কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর বদলে কমিটিতে স্থান পান প্রধানমন্ত্রী মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন সদস্য। এর ফলে কমিটির পাল্লা কেন্দ্রের দিকেই ঝুঁকে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে।

কেন্দ্রের এই নয়া আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুর এবং নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (ADR) সহ একাধিক পক্ষ এই মামলা দায়ের করে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি নিরপেক্ষ সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে সরকার। এর আগে কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল যে, কমিটিতে বিচার বিভাগের প্রতিনিধি না থাকলেই যে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হবে, এমনটা ভাবা ভুল। এমনকি দুই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রের তড়িঘড়ি পদক্ষেপকেও চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

বুধবার শুনানির শুরুতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তিনি ৯ বিচারপতির বেঞ্চে শবরীমালা মামলার শুনানি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাই এই মামলার জন্য সময় চান তিনি। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অন্য সবকিছুর থেকে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সহযোগীদের আজ নোট নিতে বলুন।” এমনকি শবরীমালা মামলা নিয়ে সংবাদপত্রের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে বিচারপতি দত্ত জানিয়ে দেন যে, এই আইনি লড়াই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, বৃহস্পতিবারের মধ্যে আবেদনকারীদের সমস্ত সওয়াল-জবাব শেষ করতে হবে। এরপরই কেন্দ্র নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ পাবে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০ মার্চ বিচারপতি সূর্যকান্ত এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন যাতে স্বার্থের সংঘাতের কোনও প্রশ্ন না ওঠে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি দুই কমিশনার নিয়োগে স্থগিতাদেশ না দিলেও, নিয়োগের পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান মনোভাব যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy