বাংলায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বড়সড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী তথা তাঁর অন্যতম নির্ভরযোগ্য আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (৪১)। বুধবার গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খোদ বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের একজনকে এভাবে টার্গেট করায় প্রশাসনের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
চন্দ্রনাথ রথ কেবল একজন সাধারণ সহকারী ছিলেন না; তিনি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী রণকৌশলের নেপথ্য কারিগর। সম্প্রতি সমাপ্ত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—এই দুই হাই-প্রোফাইল আসনেই শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের নেপথ্যে লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুদায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রাক্তন এই সদস্য ২০ বছর দেশসেবা করার পর স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এরপর কিছুকাল কর্পোরেট জগতে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম আস্থভাজন হিসেবে রাজনৈতিক আঙিনায় থিতু হন।
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথের সঙ্গে অধিকারী পরিবারের সম্পর্ক দুই দশকেরও বেশি পুরনো। তাঁর মা হাসি রথ এক সময় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের পদাধিকারী ছিলেন, যিনি ২০২০ সালে শুভেন্দুর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৯ সাল থেকেই চন্দ্রনাথ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দুর সঙ্গে কাজ শুরু করেন। শান্ত স্বভাবের এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা চন্দ্রনাথ দলের অন্দরে ‘লো-প্রোফাইল’ কর্মী হিসেবে পরিচিত হলেও শুভেন্দুর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। বিশেষ করে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচারের সমন্বয়ে তাঁর দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ মহলে গুঞ্জন ছিল, ২০২৬-এর জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী যদি সরকারে বড় কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেন, তবে চন্দ্রনাথকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কিন্তু তার আগেই মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় তাঁকে এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করা হল। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দিতে অস্বীকার এবং ‘রাস্তায় বিষয় নিয়ে যাওয়ার’ চ্যালেঞ্জের আবহে এই হত্যাকাণ্ডকে নিছক অপরাধ হিসেবে দেখছে না বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ২০ বছরের সেনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক ব্যক্তিকে যেভাবে পরিকল্পনা করে মারা হয়েছে, তাতে পেশাদার খুনিদের যোগ স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।





