‘সম্পর্কে জড়িয়েছিল’, গোপন চিঠির সূত্রে অনুমান পরিবারের! কাকদ্বীপে ল’ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থানার প্রতাপাদিত্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক আইনজীবীর চেম্বার থেকে ল’কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমের কোনো খোঁজ মিলছে না; তাঁর ফোনও বন্ধ রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ বছর বয়সী ওই ছাত্রী আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং প্র্যাকটিসের জন্য নিয়মিত কাকদ্বীপ আদালতের আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমের চেম্বারে যেতেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু বিকেলে হঠাৎই পরিবারের কাছে খবর আসে, ওই আইনজীবীর চেম্বারের ভেতরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন। কাকদ্বীপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
উদ্ধার হলো গোপন চিঠি, সম্পর্কের ইঙ্গিত পরিবারের:
মৃত তরুণীর ব্যাগ থেকে পুলিশ বেশ কিছু চিঠি উদ্ধার করেছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই চিঠিগুলিতে অনেক গোপন কথা লেখা রয়েছে। এর ভিত্তিতে মৃতের পরিবারের প্রাথমিক অনুমান, ওই আইনজীবীর সঙ্গে ছাত্রীটি কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মৃতের বাবা ও বোনের বক্তব্যেও সেই সন্দেহের ছাপ স্পষ্ট। মৃতের বোন বলেন, “দিদি কিছুই বলে যায়নি। সকালে হাসিমুখে বেরিয়ে গেল। প্রায় এক বছর ধরে ওখানে যাতায়াত করছে দিদি। ওর ব্যাগ থেকে কিছু চিঠি পাওয়া গিয়েছে, যেখানে অনেককিছুই গোপন কথা লেখা রয়েছে। তার উপরে ভিত্তি করেই আইনজীবীর নামে অভিযোগ করছি আমরা।”
সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, “দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দেহের কাছ থেকে বেশ কিছু চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।