“১০০০ জনে চাকরি পায় মাত্র ১২ জন!” প্রয়াগরাজের ছাত্রসভায় কেন্দ্রকে তুলোধোনা রাহুল গান্ধীর

উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ (Chhatron Ki Goonj) নামক এক ছাত্র সমাবেশে যোগ দিয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এবং কর্মসংস্থান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। দেশের যুবসমাজ কীভাবে বেকারত্বের শিকার হচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির নামে তাদের একটি নির্দিষ্ট চক্রে আটকে রাখা হচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী একবিংশ শতাব্দীর আসক্তি ও প্রযুক্তিগত রাজনীতির একটি অন্ধকার দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, বর্তমান যুগে কোনো দেশ মূলত দুটি জিনিসের ওপর ভর করে উন্নতি করতে পারে—তারুণ্যের শক্তি এবং তাদের নিজস্ব ‘ডেটা’ বা তথ্য। কিন্তু দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা যুবসমাজকে এক দুষ্টচক্রে আটকে ফেলেছে।

রাহুল গান্ধীর বক্তৃতার প্রধান বিষয়গুলি:

  • রিল এবং গিগ ইকোনমি নিয়ে কটাক্ষ: দেশের বেকারত্ব সমস্যার কথা তুলে ধরে রাহুল বলেন, তরুণরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পড়াশোনা করে ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জন করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থায়ী চাকরি জোটে না। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে মাত্র ১২ জন স্থায়ী চাকরি পান। যুবকদের ডেটা বড় বড় কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের রিল বা কনটেন্ট বানিয়ে সময় নষ্ট করতে বলা হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “রিল হলো একবিংশ শতাব্দীর নতুন নেশা। যুবসমাজকে এর মধ্যে জড়িয়ে তাদের শেষ পর্যন্ত ব্লিংকিট বা উবারের মতো সংস্থায় শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রিল বানাও, শ্রমিক হও, কিন্তু এই দেশে কোনো স্থায়ী চাকরি পাবে না!”

  • এআই এবং ডেটার গুরুত্ব: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডেটা ছাড়া এআই সম্পূর্ণ অর্থহীন। ডেটা দিয়ে এআই তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু এআই থেকে ডেটা তৈরি করা যায় না। অথচ তরুণদের সেই সম্ভাবনাময় ডেটা আজ কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

  • বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে আক্রমণ: দিল্লি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে রাহুল বলেন, দেশের যুবসমাজ অন্ধকারের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে। পুরো সিস্টেম আজ বিজেপি, আরএসএস এবং নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিপতির স্বার্থে চালিত হচ্ছে। বিজেপির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হাজার হাজার কোটিতে পৌঁছেছে এবং দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আরএসএস-এর প্রচারকদের বসিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

ঘৃণা নয়, ভালোবাসার বার্তা: তরুণ প্রজন্মকে উদ্দীপ্ত করে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি কখনও ঘৃণা বা হিংসার শিক্ষা দেয় না। দেশের যুবসমাজই ভারতের আত্মা ও ভবিষ্যৎ। তাই কোনো শিক্ষার্থীর মনে ঘৃণা থাকা উচিত নয়, একমাত্র ভালোবাসা থাকলেই এই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার অবসান ঘটানো সম্ভব। তিনি তরুণদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, “আমাদের ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই করে ভালোবাসার দোকান খুলতে হবে।”