৬ ডিসেম্বর ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক! চার ডাক্তার মিলে তুলল ২০ লক্ষ টাকা, কেনা হলো ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার

দিল্লি থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় গত সোমবারের লালকেল্লা বিস্ফোরণের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) সঙ্গে যোগসাজশের সন্দেহে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ডাক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, আটক সন্দেহভাজনদের ব্যক্তিগত কার্যকলাপের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই।
গত সোমবার লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হন। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে গাড়িটির চালক ছিলেন ডা. উমর মহম্মদ। তাঁর সহযোগী আরও তিনজন চিকিৎসক— ডা. মুজাম্মিল শাকিল, ডা. আদিল রাঠার এবং ডা. শাহিদ সাইদ— এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এনডিটিভি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও রাসায়নিক পাচার:
৭০ একর জমির উপর বিস্তৃত আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়টি হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্ত থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তদন্তে সামনে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর ভবনের ১৩ নম্বর কক্ষটি (ডা. মুজাম্মিলের) ছিল এই ষড়যন্ত্রের মূল বৈঠকখানা। উমর এবং তাঁর সহযোগীরা এই কক্ষেই প্রায়শই মিলিত হতেন এবং দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করতেন।
জঙ্গিরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগার থেকে বোমা তৈরির জন্য রাসায়নিক পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। ল্যাবরেটরি মুজাম্মিলের ঘর থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল। উমর ও শাহিদ এই রাসায়নিক জোগাড় করে ফরিদাবাদের ধৌজ ও তাগা গ্রামে ভাড়া করা জায়গায় সংরক্ষণ করতেন।
মুজাম্মিলের ঘরটি এখন সিল করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস, পেনড্রাইভ এবং সাংকেতিক শব্দ ও এনক্রিপ্টেড বার্তা ভরা দু’টি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। ডায়েরিগুলিতে ‘অপারেশন’ শব্দটি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ল্যাব থেকে পাচার হওয়া রাসায়নিকগুলি অল্প পরিমাণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটকে অক্সিডাইজারের সঙ্গে মিশিয়ে বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হত। এই সংমিশ্রণটি ANFO (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও জ্বালানি তেলযুক্ত) যৌগ হিসেবে পরিচিত, যা দিল্লি বিস্ফোরণেও ব্যবহৃত হয়েছে। ফরিদাবাদে অভিযানে পুলিশ ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ ২,০০০ কেজিরও বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে।
তহবিল ও লক্ষ্য:
তদন্তকারীদের দাবি, দিল্লি জুড়ে জঙ্গি হামলা চালানোর জন্য এই চার চিকিৎসক প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল ৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার দিনে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো।
সংগৃহীত অর্থ উমরের কাছে রাখা ছিল। পরে তাঁরা সেই টাকায় গুরুগ্রাম, নুহ এবং আশেপাশের বাজার থেকে প্রায় ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার কিনেছিলেন, যা আইইডি (IED) তৈরিতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। এই সার কেনা বাবদ তাঁদের প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি:
আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভূপিন্দর কৌর আনান দিল্লি বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বিবৃতিতে দাবি করেছেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের (আটক চিকিৎসকদের) ব্যক্তিগত কার্যকলাপের কোনো সম্পর্ক নেই।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করার লক্ষ্যে ভিত্তিহীন প্রতিবেদনেরও নিন্দা করেছেন।