নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে বিডিও-র ২ ঘনিষ্ঠ গ্রেফতার, মারধরের পর নীলবাতি গাড়িতে দেহ ফেলার অভিযোগ

নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগের তদন্তে পুলিশ এবার জাল গোটাচ্ছে। এই ঘটনায় রাজগঞ্জের বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মণের দুই ঘনিষ্ঠ— তাঁর কলকাতার গাড়ির চালক রাজু ঢালি এবং উত্তরবঙ্গের ঠিকাদার তুফান থাপা— ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। বৃহস্পতিবার ধৃতদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তুফান থাপার চাঞ্চল্যকর ‘অফ দ্য রেকর্ড’ বয়ান:

ক্যামেরার সামনে নীরব থাকলেও, অফ দ্য রেকর্ড তুফান থাপা তদন্তকারীদের সামনে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, ২৮ তারিখে বাগডোগরা যাওয়ার টিকিট থাকা সত্ত্বেও বিডিও প্রশান্ত বর্মন তাঁকে সেদিন যেতে মানা করেন এবং ২৯ তারিখে যেতে বলেন। সেই মতো তিনি থেকে যান।

তুফান থাপা আরও জানান, সেই সময় খাওয়া-দাওয়া চলছিল। এর পরেই কোচবিহার ব্লক ২ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সেখানে যান, এবং তারপরেই মারধর শুরু হয়।

খুনের বিবরণ:

পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, দত্তাবাদের সোনার দোকান থেকে স্বপন কামিল্যাকে তুলে আনা হয়, সঙ্গে আনা হয় সোনা চুরি করা অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও। স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিউটাউনের একটি আবাসনের দোতলার একটি ঘরে আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করা হয়। সোনা চুরি করা ব্যক্তির উপরেও চলে অকথ্য অত্যাচার।

অভিযোগ, বেল্ট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের এক পর্যায়ে একজন বাঁশ জাতীয় কিছু দিয়ে স্বপনের মাথার পিছনে আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং আর জ্ঞান ফেরেনি। এরপরই নীলবাতি গাড়িতে করে ব্যবসায়ীর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় এবং যাত্রাগাছিতে খালের ধারে ফেলে দেওয়া হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্তের জাল আরও প্রসারিত করছে।