স্বাস্থ্য দফত্রকে অন্ধকারে রেখে রমরমিয়ে চলছে রক্ত ও প্লাজমা পাচার! কড়া পদক্ষেপ করল জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পরিষদ (NBTC)

রাজ্য স্বাস্থ্য দফত্রকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বাংলা থেকে ভিনরাজ্যে গোপনে রক্ত ও প্লাজমা পাচার (Blood and Plasma Trafficking) করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই গুরুতর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পরিষদ বা NBTC (National Blood Transfusion Council) সরাসরি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।

কী জানা যাচ্ছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায়? সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পরিষদ বা SBTC-র পক্ষ থেকে কোন কোন বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক এই বেআইনি পাচার চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, তার প্রাথমিক তথ্য এনবিটিসি-কে জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তরফ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে—

  • ঠিক কোন কোন রাজ্যে লোহিত রক্ত কণিকা (RBC) এবং প্লাজমা ‘বাল্ক ট্রান্সফার’ (Bulk Transfer) করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব দিতে হবে।

  • পাচার হওয়া রক্তের মোট পরিমাণ কত এবং কতদিন ধরে এই অবৈধ কারবার চলছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করতে হবে।

  • আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি এবং বাল্ক ট্রান্সফারের সমস্ত হিসাব সম্বলিত লিখিত রিপোর্ট NBTC-র কাছে জমা দিতে হবে।

স্বাস্থ্য দফতরের নতুন নির্দেশিকা: রাজ্যের রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও। সরকারি, বেসরকারি এবং কেন্দ্রীয় সরকারি—সব ধরনের ব্লাড ব্যাংকের জন্যই এবার রক্ত সংক্রান্ত লেনদেন নিয়ে নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রক্তদান শিবিরে কোন ব্লাড গ্রুপের রক্ত কত পরিমাণে সংগ্রহ হচ্ছে এবং কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তার প্রতি মুহূর্তের ডিজিটাল হিসাব রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনবিটিসি-র এই কড়া পদক্ষেপে আগামী দিনে আরও বড় কোনো দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।