ভারতের মহিলা কর্মসংস্থানে নতুন ইতিহাস উত্তরপ্রদেশে! যোগী সরকারের সিদ্ধান্তে এখন রাতেও কাজ করতে পারবেন মহিলারা

ভারতের মহিলা কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস রচনা করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের মহিলারা এখন থেকে নিজেদের সম্মতি সাপেক্ষে রাতের শিফটে (Night Shift) কাজ করতে পারবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘মহিলা সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগের যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা, পরিবহন ও দ্বিগুণ মজুরি
এই নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যারা রাতের শিফটে কাজ করবেন, তাঁদের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি নিশ্চিত করা হবে:
নিরাপত্তা: কর্মস্থল থেকে বাড়ি পর্যন্ত নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা, CCTV নজরদারি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া সিস্টেম (SOS)।
কর্মক্ষেত্র: রাতের শিফটে অন্তত দুই বা তার বেশি মহিলা কর্মী একসঙ্গে উপস্থিত থাকার শর্ত।
কর্তৃত্ব: মহিলা নিরাপত্তা অফিসার বা সুপারভাইজার থাকা বাধ্যতামূলক।
মজুরি: রাতের শিফটে কাজ করলে দ্বিগুণ মজুরি, সঙ্গে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সুবিধা, ছুটি ও ইনস্যুরেন্স কভার দেওয়া হবে।
সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনো সংস্থাই এই নির্দেশিকা উপেক্ষা করলে তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল মহিলা কর্মীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও পেশাগত বিকাশের নতুন পথ খুলে দেওয়া।
২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পে প্রযোজ্য
এই নীতি রাজ্যের ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রেও (Hazardous Industries) কার্যকর হবে, যা ভারতীয় শ্রমনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই খাতগুলির মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল ও ম্যানুফ্যাকচারিং, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি এবং ফার্মাসিউটিক্যালস। আগে এই শিল্পে রাতে মহিলাদের কাজের অনুমতি ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
শ্রমনীতি বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে ভারতের শ্রমক্ষেত্রে জেন্ডার ইনক্লুসিভিটির নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করেছেন। দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিক্স-এর অধ্যাপক ডঃ সুষমা তিওয়ারি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত মহিলা শ্রমশক্তিকে শুধু বাড়াবে না, বরং সমাজে মহিলাদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকেও শক্তিশালী করবে।”
উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি শিল্পাঞ্চলে Women Safety Cell গঠন করা হবে, যারা এই নতুন নীতি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব নেবে। ভারতে এর আগে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের মতো কয়েকটি রাজ্যে রাতের শিফটে মহিলাদের কাজের অনুমতি ছিল। ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এর প্রভাব জাতীয় প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী হবে।