মন্ত্রীর ওপর নজরদারির ভয়ঙ্কর ছক! এসটিএফের জালে হামিম-অর্পিতার পর এবার কে এই আদিত্য?

বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ডের পর এবার সোজা হাওড়ার বুকে হানা দিয়ে জঙ্গি যোগের অভিযোগে আরও এক তরুণকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ধৃত হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারের পর এবার এসটিএফের জালে ধরা পড়েছে তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী আদিত্য সিং ওরফে রাজু। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের নিজ বাড়ি থেকে গভীর রাতে এক আকস্মিক অভিযানে এসটিএফের চৌকস গোয়েন্দারা তাকে পাকড়াও করেন। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, মূল অভিযুক্ত হামিমকে দীর্ঘকাল ধরে চিনত আদিত্য এবং বিভিন্ন দেশবিরোধী কার্যকলাপে তাকে নানাভাবে সাহায্য ও মদত জুগিয়ে আসত।

তদন্তকারীদের হাতে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জেরায় জানা গিয়েছে, প্রভাবশালী মন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর পরিবারের ওপর কড়া নজর রাখার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই আদিত্য সিংকে। মন্ত্রীর প্রতি মুহূর্তের গতিবিধি এবং তাঁর কার্যকলাপ অত্যন্ত সুকৌশলে ট্র্যাক করত আদিত্য। শুধু তাই নয়, মন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের ব্যবহৃত গাড়ি, বাড়ি এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের বিভিন্ন গোপন ছবি ও হাই-রেজোলিউশন ভিডিও সরাসরি হামিম মণ্ডলের কাছে পাচার করত সে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নিরাপত্তা মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।

তদন্তকারী অফিসাররা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, আদিত্য ও হামিমের চক্রটি কেবল কি মন্ত্রীর পরিবারের ওপরই নজরদারি চালাচ্ছিল, নাকি তাদের টার্গেট লিস্টে আরও বহু হাই-প্রোফাইল ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাসমূহ ছিল। এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের গভীরে আর কোন কোন মাথা জড়িত রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট কী উদ্দেশ্যে এই গোপন তথ্য পাচার করা হচ্ছিল—তার নিখুঁত হদিশ পেতেই ধৃত আদিত্যকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কড়া জেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এসটিএফ আধিকারিকরা।

এদিকে এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের ওই আবাসনে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ধৃত আদিত্য কলকাতার একটি কলেজে বি.কম নিয়ে পড়াশোনা করত। কিন্তু কীভাবে সে হঠাৎ এই ভয়ংকর জঙ্গি-নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল, তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা। আদিত্যের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, “ছেলেটিকে সবসময় পড়াশোনা করতেই দেখেছি। ওর পরিবারে বাবা, মা ও বোন রয়েছে। বাড়িতে ওর কোনো বন্ধুবান্ধবকেও কখনও আসতে দেখিনি। আদিত্য ভীষণ ভালো ছেলে ছিল, আমরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে ও এমন কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। আমাদের মনে হচ্ছে ওকে কেউ সুকৌশলে ফাঁসিয়েছে।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আদিত্যের বাবা বড়বাজারের একটি মশলার দোকানে সামান্য কর্মচারীর কাজ করেন। সম্প্রতি অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনার জন্য একটি ল্যাপটপও কিনে দিয়েছিলেন তিনি। পড়ার খরচের পাশাপাশি প্রতিদিন হাতখরচ বাবদ আদিত্যকে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে দিয়ে যেতেন তাঁর বাবা। আদিত্যের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “ছেলেকে সবসময় পড়াশোনা করতে আর কলেজে যেতেই দেখেছি। ও যে এত বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে, তা আমাদের কল্পনার বাইরে। যদি একটুও বুঝতে পারতাম, তাহলে কি আর ওকে চোখের আড়াল হতে দিতাম?” অন্যদিকে, আদিত্যের এক আত্মীয়ের দাবি, দিনকয়েক আগেও কিছু আধিকারিক এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে গিয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎ এই দশ দিনের মধ্যে কী এমন ঘটে গেল, সে বিষয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন।