সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলতেই চরম বিপদ! বিষাক্ত গ্যাসের আকস্মিক হানা, ঝাড়গ্রামে দু’জনের প্রাণ বাঁচাল কে?

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি নতুন নির্মিত সেপটিক ট্যাঙ্কের পাটাতন বা ঢাকনা খুলতে গিয়ে ঘটল এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে আকস্মিক জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন দুই ব্যক্তি। সোমবার সকালে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম এলাকায়। এই আকস্মিক বিপদের জেরে মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তবে স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসকের সময়োচিত বুদ্ধিমত্তা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন দুই আক্রান্ত ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে বিস্তারিত জানা গিয়েছে, ওই সেপটিক ট্যাঙ্কটি গত কয়েক মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। সোমবার সকালে ট্যাঙ্কটি পরিষ্কার বা খোলার উদ্দেশ্যে সেটির ভেতরে প্রবেশ করেন অজিত দেশোয়ালি নামক এক কর্মরত যুবক। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ট্যাঙ্কের ভেতরে তৈরি হওয়া বিষাক্ত গ্যাসের প্রকোপে মুহূর্তের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন অজিত। এরপর অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ওই যুবককে বাঁচানোর জন্য কোনো কিছু না ভেবেই এগিয়ে যান বাড়ির মালিক সুব্রত সেনগুপ্ত। কিন্তু মারাত্মক গ্যাসের প্রভাবে তাঁকেও একই পরিস্থিতির শিকার হতে হয় এবং তিনিও সঙ্গে সঙ্গে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

এদিকে এই আকস্মিক ঘটনায় যুবকের স্ত্রীর আর্তনাদে চারপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং শুরু হয় জরুরি উদ্ধারকাজ। বাড়ির ঠিক পাশেই থাকা এক স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসকের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় মেলে এই সংকটজনক মুহূর্তে। তিনি মুহূর্তের মধ্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে দুই অসুস্থ ব্যক্তির মুখে গ্যাস দেওয়া শুরু করেন, যা তাঁদের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় ভূমিকা নেয়। ওই চিকিৎসকের জরুরি ফোন পাওয়ার মাত্র দু’ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ বাহিনী। এরপর পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকা দুই ব্যক্তিই সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত এবং সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।