গোদ রোগ কী, কেন হয়? প্রতিরোধ করবেন কিভাবে? জানতে পড়ুন

গোদ বা ফাইলেরিয়া রোগ হচ্ছে একপ্রকার কৃমিজাতীয় রোগ। যা ক্ষুদ্র পরজীবী জীবাণুর আক্রমণে মানবদেহে হয়ে থাকে। এই সংক্রমণ মানুষের শরীরে মশার কামড়ের মাধ্যমে প্রবেশ করে। কিউলেক্স মশার কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে থাকে এই সংক্রমণ। মানবদেহে প্রবেশের পর লিমফেটি পদ্ধতিকে আক্রমণ করে। এতে করে লসিকারস প্রবাহতে বাধা প্রদান করে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে জমে গিয়ে একপর্যায়ে অঙ্গটি ধীরে ধীরে ফুলে মোটা করে তুলে।

শরীরের যে অঙ্গে গোদ হয়ে থাকে, সেই অঙ্গের ত্বকের নিচে টিস্যুর ক্ষতি হয়। সাধারণত মশার মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু ছড়িয়ে থাকে। আবার এডিস মশার কামড় থেকেও শরীরে গোদ রোগ হতে পারে।

গোদ রোগের লক্ষণ: সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন অংশ ধীৗরে ধীরে ফুলে যাবে, ত্বক ও এর নিচের টিস্যুও মোটা হতে থাকবে। এসব হচ্ছে গোদ রোগের প্রধান লক্ষণ, যা কিনা মশার মাধ্যমে সংক্রমিত রোগ হিসেবে প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল। শরীরের সংক্রমিত অংশকে ফুলে যাওয়াকে বলা হয় এলিফেনটায়াসিস। সাধারণত পায়েই এই ফুলে যাওয়ার চিত্র বেশি দেখা যায়। তবে পা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে বাসা বাঁধতে পারে ফাইলেরিয়া জাতের ভিন্ন ভিন্ন কৃমি।

এদিকে গোদ রোগ সম্পর্কে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার। তিনি জানিয়েছেন, গোদ রোগ হলে সাধারণত হাত, পা, অন্ডকোষসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গও আক্রান্ত হয়ে থাকে। হাত-পা ফুলে গিয়ে অনেক সময় ছোটখাটো হাতির পায়ের মতো হয়। আর হাতির চামড়ার মতো ভারী চামড়া, কুঁচকানো, মোটা ও কালো হয় বলে এটাকে এলিফ্যানটিয়াসিসও বলা হয়।

চিকিৎসা: গোদ রোগ এলবেনডাজল, আইভারমেকটিন কিংবা ডাই-ইথাইল কার্বামাজেপিন নামক ওষুধের মাধ্যমে ঠিক হয়ে থাকে। কিন্তু এই ওষুধ দুই বছরের শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা সেবন করতে পারবেন না। আর কারও যদি অন্ডকোষ ফুলে হাইড্রসিল হয় কিংবা হাত-পা বেশি ফুলে গেলে অস্ত্রোপচার করতে হয় বলে জানিয়েছেন ডা. কাকলী হালদার।

গোদ রোগের প্রতিরোধ: গোদ রোগ প্রতিরোধযোগ্য। এ জন্য বাসস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাসেবা বা হাসপাতালের আশপাশের ঝোপঝাড়, ফুলের খালি টব, গর্ত, খাল, ডোবা, পচা পুকুরসমূহ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। এ জন্য কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মশার বিস্তার বন্ধ করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। বিকেল হলে বাড়ির জানালা বন্ধ রাখতে পারেন। এতে ফাইলেরিয়াসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর যেসব পরিবারে গোদ রোগী রয়েছে, তাদের এ রোগের ওষুধ সেবন করতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy