পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা মিটলেও বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এবার কাঠগড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটের দিন ফলতার একাধিক বুথে ইভিএম (EVM) কারচুপি এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি এতটাই গম্ভীর যে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন প্রয়োজনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে। এমনকি, গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনরায় নির্বাচন (Repoll) করার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, ফলতার ২৩৫ এবং ২৫২ নম্বর বুথ নিয়ে সবথেকে বেশি জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বুথগুলিতে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে এবং ইভিএমে কারচুপি করে বিশেষ একটি দলের পক্ষে ভোট করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই অভিযোগ পাওয়ামাত্রই জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। সিইও মনোজ আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা নির্দিষ্ট কিছু বুথের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্ক্রুটিনি রিপোর্ট খতিয়ে দেখছি। যদি দেখা যায় যে সেখানে ভোটিং প্রক্রিয়ার পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে, তবে আমরা কঠোরতম পদক্ষেপ নেব। শুধুমাত্র একটি বা দুটি বুথ নয়, প্রয়োজনে পুরো বিধানসভাতেই ভোট বাতিল করে ফের নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।”
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতার বুথভিত্তিক রিপোর্টগুলি খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হয়েছে। ২৩৫ ও ২৫২ নম্বর বুথের পাশাপাশি আরও অন্তত দশটি বুথ এখন কমিশনের আতসকাচের তলায়। রিপোল বা পুনর্নির্বাচন নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে সিইও জানিয়েছেন, “মানুষের রায় যেন সঠিক প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জালিয়াতি বা শক্তির দাপট দেখিয়ে ভোট করানো আমরা বরদাস্ত করব না।” এই হুঁশিয়ারির পর থেকেই ফলতা জুড়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। এখন দেখার, স্ক্রুটিনির পর কমিশন শেষ পর্যন্ত কতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।





