রেলে দীর্ঘ সফরের সময় যাত্রীদের কাছে সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো খাবারের গুণমান। ট্রেনের প্যান্ট্রি কার হোক বা প্ল্যাটফর্মের স্টল—খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, তা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন থেকে যায়। তবে এবার ভ্রমণপিপাসু ও নিত্যযাত্রীদের সেই উদ্বেগ দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (NFR)। উত্তর-পূর্ব ভারতের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনকে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) দ্বারা মর্যাদাপূর্ণ ‘ইট রাইট স্টেশন’ (Eat Right Station) সার্টিফিকেটে ভূষিত করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের লামডিং ডিভিশনের অধীনে থাকা এই স্টেশনগুলি এখন থেকে সরকারিভাবে সুরক্ষিত এবং পুষ্টিকর খাবারের গ্যারান্টি দিচ্ছে। এই তালিকায় শুধু স্টেশন নয়, জায়গা করে নিয়েছে লামডিঙস্থিত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের (DRM) কার্যালয়ের ক্যান্টিনটিও। এই সার্টিফিকেটটি ৩০ মার্চ ২০২৬ থেকে ২৯ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছরের জন্য বৈধ থাকবে। অর্থাৎ, আগামী দু’বছর এই স্টেশনগুলিতে যাত্রীরা চোখ বন্ধ করে খাবারের ওপর ভরসা রাখতে পারবেন।
যে ১০টি স্টেশন এই বিশেষ সম্মান পেয়েছে সেগুলি হলো— কাছাড় জেলার শিলচর, শ্রীভূমি জেলার করিমগঞ্জ, ডিমা হাসাও জেলার নিউ হাফলং, কার্বি আংলং জেলার ডিফু, হোজাই জেলার লামডিং ও লঙ্কা, নগাঁও জেলার চাপরমুখ, মরিগাঁও জেলার জাগিরোড এবং গোলাঘাট জেলার সরুপাথার। এই স্টেশনগুলির ফুড স্টল, ক্যাটারিং ইউনিট এবং রান্নার কর্মীদের ওপর এক বিস্তারিত নিরীক্ষা বা অডিট চালানোর পরেই এই স্বীকৃতি মিলেছে। রান্নার পরিচ্ছন্নতা, কাঁচামাল সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের জন্য সুষম খাবারের বিকল্প রাখা—এই সমস্ত কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এই স্টেশনগুলি।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, এফএসএসএআই-এর ‘ইট রাইট ইন্ডিয়া’ অভিযানের লক্ষ্যই হলো দেশের প্রতিটি কোণায় সুরক্ষিত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া। রেলওয়ে আধিকারিক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং ক্য়াটারিং কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতে রেল পর্যটন আরও জনপ্রিয় হবে এবং যাত্রীরা নিশ্চিন্তে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারবেন।





