“এক মাস পরেও তাজা!”-কেন ঠেকুয়াকে বলা হয় ভারতের ‘সুপার ফুড’? জানুন এর রহস্য

সম্প্রতি স্লোভাক ন্যাশনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রিচার্ড রাসি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনি পরম তৃপ্তিতে উপভোগ করছেন বিহারের ঐতিহ্যবাহী পদ ‘ঠেকুয়া’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর স্লোভাকিয়া সফরের সময় উপহার হিসেবে এটি দিয়েছিলেন। রাসি জানিয়েছেন, এই স্বাদের সঙ্গে তাঁদের দেশের ঐতিহ্যবাহী কুকিজের দারুণ মিল রয়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের মিষ্টি রসায়ন রিচার্ড রাসি ভিডিওতে বলেন, “এটি কেবল একটি খাবার নয়, দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন ও বন্ধুত্বের প্রতীক।” এক মাস পরেও এই ডেজার্ট কীভাবে এত ভালো রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পুষ্টিবিদ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠেকুয়ার দীর্ঘদিন ভালো থাকার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত কারণ।
ঠেকুয়া কেন দীর্ঘদিন নষ্ট হয় না? ১. আর্দ্রতার অভাব (Low Water Activity): ঠেকুয়া তৈরির সময় জলীয় অংশ অত্যন্ত কম রাখা হয়। আটা, ঘি ও গুড় বা চিনি মিশিয়ে তৈরি মণ্ডকে ডুবো তেলে ভাজার ফলে খাবারের ভেতরের আর্দ্রতা পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। আর্দ্রতা না থাকলে ব্যাকটিরিয়া, ইস্ট বা ছত্রাক সহজে জন্মাতে পারে না।
২. ঘি ও গুড়ের সুরক্ষা: ঘি একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে এবং গুড় জলীয় অংশকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা জীবাণুর বংশবৃদ্ধি রুখে দেয়।
৩. বায়ুরোধী সংরক্ষণ: ভাজার পর পুরোপুরি ঠান্ডা করে এয়ার-টাইট বা বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে এটি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত মুচমুচে ও সুস্বাদু থাকে।
ঠেকুয়া কি আদপেই স্বাস্থ্যকর? পুষ্টিবিদদের মতে, ময়দা ও পরিশোধিত চিনিতে তৈরি পান্তুয়া বা রসগোল্লার তুলনায় ঠেকুয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এর কারণগুলো হলো:
ফাইবার: আটা ব্যবহার করার কারণে এতে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি।
খনিজ উপাদান: চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করায় এতে আয়রন ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।
সতর্কতা: ক্যালোরির দিক থেকে এটি বেশ ভারী। তাই ঘি ও মিষ্টি উপাদানের কথা মাথায় রেখে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই বাঞ্ছনীয়।
আরও স্বাস্থ্যকর করার উপায় বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য ঠেকুয়াকে নতুন রূপে আনা হচ্ছে। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন:
মিলেট যোগ: গমের আটার সঙ্গে বাজরা বা অন্যান্য মিলেটের আটা মেশালে ফাইবারের গুণাগুণ বাড়ে।
পুষ্টি বৃদ্ধি: তিল, ফ্ল্যাক্সসিড বা বাদাম মিশিয়ে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়ানো সম্ভব।
আধুনিক পদ্ধতি: ঘি ও গুড়ের পরিমাণ কমিয়ে অনেকে আজকাল এয়ার ফ্রাই বা বেক করেও ঠেকুয়া তৈরি করছেন, যা ক্যালোরি কমাতে সাহায্য করে।
বিহার ও ঝাড়খণ্ডের এই ঐতিহ্যবাহী প্রসাদটি আজ কেবল ছট পুজোর গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের এক সুমিষ্ট স্মারক হয়ে উঠেছে।