অনশনে থাকা সোনম ওয়াংচুককে জবরদস্তি হাসপাতালে ভর্তি! ক্ষোভে ফুঁসছে রাজধানী, মোদী সরকারের পদত্যাগের ডাক

দিল্লির জন্তর মন্তরে গত ২১ দিন ধরে লাগাতার অনশনে থাকা লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে উত্তাল রাজধানী। গত রাতে দিল্লি পুলিশ তাকে জবরদস্তি প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। দীর্ঘ উপবাসের কারণে সোনম ওয়াংচুক শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে তাকে অবিলম্বে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিহাইড্রেশন ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে তার প্যারামিটারগুলো স্বাভাবিক রাখতে টানা চিকিৎসার প্রয়োজন। তার দেখভালের জন্য দুই ডাক্তার ও দুই প্যারামেডিকসের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘কায়েমি স্বার্থের কাণ্ডকারখানা’ হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে আনা হয়, কিন্তু সোনম ওয়াংচুক নিজে শুরু থেকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে অস্বীকার করেছিলেন। এই ঘটনার পর তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়েছেন, তাদের বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া সোনম ওয়াংচুককে যেন কোনোভাবেই কোনো কিছু খাওয়ানো বা স্যালাইন দেওয়া না হয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দপকে হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, “সোনম স্যারকে সরিয়ে দিলেই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে—এমনটা যারা ভাবছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমাদের আন্দোলন চলছে এবং চলবে। ২০ জুলাই আমরা সংসদ অভিযান করবই।” আগে তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করছিলেন, কিন্তু এই ঘটনার পর তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
রাজনৈতিক মহল থেকেও সরকারকে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছে। আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া বলেন, “পেপার লিকে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা আওয়াজ তুলছে, তাদের ওপর গুন্ডামি চালানো হচ্ছে। এটা রাজনীতি নয়, চরম কাপুরুষতা।” অন্যদিকে, এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পাওয়ার কেন্দ্রের এই আচরণকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তোপ দেগেছেন। তিনি জানান, সরকার সমস্যা সমাধান না করে কেবল তামাশা দেখছে। তবে বিরোধী দলগুলির মতে, সোনম ওয়াংচুকের এই প্রতিবাদ কেবল একজন ব্যক্তির লড়াই নয়, এটি ভারতের ছাত্রসমাজের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক গণ-আন্দোলন। হাসপাতালে শুয়েও সোনম ওয়াংচুকের অনুগামীরা জন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছেন, যার ফলে রাজনৈতিক চাপ এখন তুঙ্গে।