ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় চমক! বিদেশ থেকে আসছে ২৯ হাজার কোটি টাকার বিপুল পুঁজি, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি

ভারতীয় ব্যাংকিং সেক্টর এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং ইতিবাচক খবর সামনে এসেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকগুলো একটি বিশেষ ‘ওভারসিজ ডিপোজিট স্কিম’ বা বিদেশি আমানত প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.৯ লক্ষ কোটি টাকা) বিদেশি পুঁজি আসার প্রত্যাশা করছে। অর্থনৈতিক সূত্রের এই খবর প্রকাশের পর থেকেই আর্থিক বাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ ডলারের প্রবাহ ভারতের ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থের সংকট (Liquidity Crunch) মেটাতে একটি ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে।

৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাঁচজন প্রবীণ ব্যাংকার রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, সরকারি ব্যাংকগুলো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এই লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে। মূলত রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) ভর্তুকিযুক্ত ডলার ডিপোজিট উইন্ডোর মাধ্যমেই এই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সরকারি ব্যাংকের প্রধানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংকারদের মতে, প্রতিটি ব্যাংক তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বড় ব্যাংকগুলোর লক্ষ্য ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ছোট ব্যাংকগুলো ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।

৫ জুন শুরু হওয়া প্রকল্পের খুঁটিনাটি
গত ৫ জুন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ানদের (NRI) জন্য একটি জিরো-কস্ট ফরেন-এক্সচেঞ্জ সোয়াপ সুবিধা ঘোষণা করেছিল। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকগুলোকে এমন আমানতের ওপর আরও বেশি সুদ বা রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। এই স্কিমটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। যদিও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ইনফ্লো হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই পরিমাণটি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই সামান্য। বাজার বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান ছিল, এই স্কিমের মাধ্যমে ভারত ৪০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারবে।

পুঁজির উৎস ও ব্যাংকিং খাতের প্রত্যাশা
ইন্ডিয়ান ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, শুরুতে ধীরগতি থাকলেও সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে তাঁদের ব্যাংক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। এই পুঁজির সিংহভাগ মূলত উপসাগরীয় দেশ এবং সিঙ্গাপুর থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ব্যাংক ইতিমধ্যে ১৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে ফেলেছে।

গত ২৩ জুন রিজার্ভ ব্যাংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে স্পষ্ট করা হয় যে, ব্যাংকগুলো এই ডিপোজিটের পরিবর্তে ঋণ দিতে পারবে এবং তার ওপর অধিকার (Lien) প্রয়োগ করতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকল্পটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এবং ইনফ্লো বা পুঁজির প্রবাহে গতি এসেছে। ব্যাংকারদের মতে, যেমনটা ২০১৩ সালে দেখা গিয়েছিল, এই স্কিমের সাফল্য মূলত শেষ সময়ের ওপরই নির্ভর করছে। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ এই ডলারের স্রোত আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।