আলিয়া-শারভারির ‘আলফা’-তে অনিল কাপুরের বাজিমাত! নারীশক্তির জয়গান গেয়ে কী বললেন অভিনেতা?

বলিউডের ‘এভারগ্রিন’ তারকা অনিল কাপুর মানেই পর্দায় এক ভিন্নধর্মী ম্যাজিক। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করে আসা এই অভিনেতা সম্প্রতি খবরের শিরোনামে এসেছেন তার নতুন ছবি ‘আলফা’-র সুবাদে। আলিয়া ভাট এবং শারভারির সঙ্গে এই হাই-অকটেন স্পাই থ্রিলারে তাকে দেখা গেছে এক নতুন অবতারে। তবে ছবির সাফল্যের চেয়েও বর্তমানে বেশি চর্চিত হচ্ছে অনিল কাপুরের নারী চরিত্র নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি। অভিনেতা খোলাখুলি জানিয়েছেন, তার বর্ণময় ক্যারিয়ারে তিনি সবসময় শক্তিশালী নারী চরিত্র এবং প্রধান ভূমিকাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন।
ইনস্টাগ্রামে ‘আলফা’-র শুটিংয়ের এক ঝলক শেয়ার করে অনিল কাপুর লিখেছেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি, এমন চলচ্চিত্রের প্রয়োজন যেখানে নারীর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ফুটে উঠবে।” তিনি মনে করেন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে নারীদের শক্তিশালী গল্পগুলোকে পর্দায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার কথায়, “আজকের সিনেমায় নারীরা শুধু শোভাবর্ধনকারী নন, বরং গল্পের মূল চালিকাশক্তি।”
নিজের ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে অনিল কাপুর জানান, বহু বছর আগেই তিনি ‘জুদাই’ বা ‘লামহে’-র মতো ছবিতে নারীপ্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আবার প্রযোজক হিসেবে তিনি ‘খুবসুরত’, ‘ভীরে দি ওয়েডিং’ এবং ‘ক্রু’-এর মতো ছবি উপহার দিয়েছেন, যেখানে নারীরাই ছিলেন গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বরাবরই এমন সব চিত্রনাট্যের সমর্থক যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন ফুটে ওঠে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির অনুপ্রেরণা হিসেবে অনিল কাপুর সশ্রদ্ধভাবে স্মরণ করেছেন তার পরিবারের নারীদের। অভিনেতা বলেন, “হয়তো এর কারণ আমি দুই অত্যন্ত শক্তিশালী কন্যা সোনম কাপুর ও রিয়া কাপুরের বাবা এবং একজন অত্যন্ত ক্ষমতায়িত নারীর স্বামী। তাদের সাহচর্যই আমাকে শিখিয়েছে নারীর শক্তি কত বিশাল।” অনিল মনে করেন, নারীর শক্তিই বর্তমানে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে, যা বাস্তবের প্রতিফলন হিসেবেই সিনেমার পর্দায় আসা উচিত।
‘আলফা’ ছবিটি যশ রাজ ফিল্মস (YRF) স্পাই ইউনিভার্সের সপ্তম কিস্তি। এই স্পাই থ্রিলারে আলিয়া ভাট ও শারভারি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবির কাহিনী একজন উচ্চ-প্রশিক্ষিত নারী গুপ্তঘাতককে কেন্দ্র করে, যাকে এক বিদ্রোহী কমান্ডার বিচ্ছিন্ন করে সুপার-সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলে। জীবনের মর্মান্তিক সত্য জেনে সে যখন প্রতিশোধের পথে নামে, তখন তার সাথে যোগ দেয় দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া বোন। ছবিতে ববি দেওলের উপস্থিতিও বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। আদিত্য চোপড়া থেকে শুরু করে পুরো ‘আলফা’ টিম যেভাবে নারীকে কেন্দ্র করে গল্প তৈরির সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে অনিল কাপুর গর্বিত। এই মানসিকতাই ভবিষ্যতে ভারতীয় সিনেমাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।