হুইলচেয়ারে বসেই বাজিমাত! দেড় বছর বিছানায় শুয়েও NEET-এ সর্বভারতীয় সাফল্য পেলেন রাজস্থানের আদিত্য

রাজস্থানের পালি জেলার সোজত অঞ্চলের বুটেলাউ গ্রামের আদিত্য বৈষ্ণব আজ ভারতের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা। NEET-2026 পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৯৪৮৩তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। তবে এই সাফল্যের পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অকল্পনীয় লড়াইয়ের গল্প। মাত্র দেড় বছর আগে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আদিত্যর জীবন পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। দু’তলা বাড়ি থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তাঁর মেরুদণ্ডে (Spinal Cord) গুরুতর চোট লাগে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধাক্কা ছিল আরও কঠিন—আদিত্যর দুই পা চিরতরে অচল হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের বিছানা, দীর্ঘ অস্ত্রোপচার আর যন্ত্রণাদায়ক ফিজিওথেরাপি যখন আদিত্যর জীবনের নিত্যসঙ্গী, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু আদিত্য ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া। হাসপাতালের চার দেয়ালের মাঝে শুয়েও তিনি তাঁর স্বপ্নের সাথে আপস করেননি। ডাক্তার হওয়ার অদম্য জেদ তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। শরীরের নিচের অংশ অচল হলেও, তাঁর মেধাশক্তি ছিল অটুট। তিনি বিছানায় শুয়েই অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে এবং নিজে নিজে পড়াশোনা (Self Study) চালিয়ে গেছেন।

এই অসাধ্য সাধনের পেছনে আদিত্যর পরিবারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাঁর বাবা জিতেশ্বরদাস বৈষ্ণব এবং মা সুমিত্রা বৈষ্ণব ভেঙে পড়েননি, বরং প্রতিটি মুহূর্তে ছেলের পাশে থেকেছেন। তাঁরা আদিত্যর লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ আর পড়াশোনার জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম জোগাড় করে দেওয়া থেকে শুরু করে ছেলেকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা—সবটাই করেছেন তাঁরা। পরিবারের এই নিঃশর্ত সমর্থন আর আদিত্যর কঠোর পরিশ্রম অবশেষে সফলতার মুখ দেখেছে।

আজ আদিত্য বৈষ্ণব কেবল একটি র‍্যাঙ্ক অর্জন করেননি, তিনি শিখিয়েছেন যে, কঠিন পরিস্থিতি মানুষকে ভেঙে ফেলতে পারে না, যদি মনের জোর অটুট থাকে। তাঁর এই গল্প এখন হাজার হাজার পড়ুয়ার কাছে উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে লক্ষ্য পূরণ করতে হয়, আদিত্যর এই যাত্রা তারই এক অনন্য দলিল।