কার্ডিফ থেকে মিরপুর, ৭৬৬১ দিনের ব্যবধানে বদলে গেল বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্র!

ক্রিকেটের পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার খেলা নয়, এটি সময়ের বিশাল বিবর্তনের দলিল। ২০০৫ সালের ১৮ জুন কার্ডিফে যখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে ম্যাচে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল, তখন বিশ্ব ক্রিকেটের সমীকরণ ছিল অন্যরকম। সেই সময়ে বিরাট কোহলির নাম শুনলে হয়তো ক্রিকেটবোদ্ধারাও বিভ্রান্ত হতেন, কারণ তিনি তখন পাদপ্রদীপের আলোয় আসার বহু দূরে ছিলেন। কিন্তু সময়ের অমোঘ নিয়মে ২০২৬ সালের ৯ জুন যখন বাংলাদেশ মিরপুরে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর রেকর্ড গড়ল, তখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। এবার বিরাটের কোনো পরিচয়ের প্রয়োজন পড়েনি; তার ৩৫৪২ কোটি টাকার ব্র্যান্ড ভ্যালুই বিশ্বজুড়ে তার অপ্রতিরোধ্য প্রভাবের জানান দিচ্ছে।
২০০৫ সালে কার্ডিফে সেই ঐতিহাসিক জয়ের সময় আজকের বিশ্বসেরা ব্যাটারদের অনেকেই অপরিচিত ছিলেন। ওই জয়ের প্রায় তিন বছর পর, ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিরাট কোহলির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। তবে যে বিরাট কোহলি ৭৬৬১ দিন আগে অনামী ছিলেন, ২০২৬ সালের ৯ জুনের দ্বিতীয় জয়ের সময় তিনি শুধু ভারতেরই নন, বরং বিশ্বের অন্যতম দামী সেলেব্রিটি। তার ৩৫৪২ কোটি টাকার ব্র্যান্ড ভ্যালু আজ শাহরুখ খান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, এমএস ধোনি, অমিতাভ বচ্চন ও শচীন টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তিদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
এই ৭৬৬১ দিনের ব্যবধানে শুধু কোহলির উত্থানই ঘটেনি, বদলে গেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ২০০৫ সালে জো রুট, স্টিভ স্মিথ কিংবা কেন উইলিয়ামসনের নাম বিশ্ব ক্রিকেটে তখনো সেভাবে উচ্চারিত হয়নি। এমএস ধোনি তখনো তার টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেননি। এমনকি ভারত তখনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একটিও ম্যাচ খেলেনি। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসেও তখন আইসিসি শিরোপার কোনো দেখা মেলেনি।
কিন্তু ২০২৬ সালের মিরপুর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মহাকাব্যের মঞ্চ। একদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় দৃঢ়তা, অন্যদিকে বিশ্ব ক্রিকেটের আমূল পরিবর্তন। জো রুট, স্টিভ স্মিথ এবং কেন উইলিয়ামসন আজ বিশ্ব ক্রিকেটের স্বীকৃত মহাতারকা। ধোনি ৯০টি টেস্ট খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। ভারত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়ে ২৭৭টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। আর ইংল্যান্ড নিজেদের ঝুলিতে ভরেছে একাধিক আইসিসি ট্রফি। কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয় থেকে মিরপুরের সাম্প্রতিক সাফল্য—এই দীর্ঘ সময়ের পথচলা আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে অখ্যাত থেকে বিশ্বসেরা হওয়া যায় এবং কীভাবে একটি খেলার বিবর্তন বিশ্বজুড়ে বিশাল প্রভাব ফেলে। ৭৬৬১ দিনের এই দীর্ঘ ব্যবধান আসলে অদম্য জেদ এবং সাফল্যের এক মহাকাব্যিক জয়গান।