সিএপিএফ আইন ২০২৬ অসাংবিধানিক? ৩৪ জন কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকারের কাছে জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

‘সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (সিএপিএফ) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকারের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলার শুনানি শেষে কেন্দ্রীয় সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ আগস্ট, ২০২৬ ধার্য করা হয়েছে।
আবেদনের নেপথ্যের কারণ কী?
কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) চৌত্রিশ জন কর্মকর্তা সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। তাঁদের দাবি, নতুন এই সিএপিএফ আইন ২০২৬ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং এটি ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৬ ও ২১ অনুচ্ছেদসহ ক্ষমতা বিভাজনের নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে।
আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ, নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের একটি আগের রায়কে নাকচ করার উদ্দেশ্যে। গত ২০২৫ সালের ২৩ মে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে সিএপিএফ-এর ডিআইজি (DIG) এবং আইজি (IG)-র মতো উচ্চ পদগুলিতে আইপিএস (IPS) কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে। আদালত তখন পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, আইপিএস অফিসারদের দীর্ঘদিনের একাধিপত্য সিএপিএফ-এর নিজস্ব ক্যাডার অফিসারদের পদোন্নতিতে বড় বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। সেই সময় সরকারের পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ করে দিয়েছিল আদালত।
দুই পক্ষের যুক্তি
আবেদনকারীদের যুক্তি: নতুন আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিএপিএফ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও চাকরির শর্তাবলী নির্ধারণ করার একচ্ছত্র ক্ষমতা হাতে পেয়েছে, যা ক্যাডার অফিসারদের পদোন্নতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। আবেদনকারীদের মতে, সংসদ নতুন আইন আনতেই পারে, তবে আদালতের আগের রায়কে অকার্যকর করার জন্য আইনি ভিত্তি না বদলিয়ে সরাসরি এমন পদক্ষেপ করা যায় না। তাছাড়া এই আইন সিএপিএফ কর্মকর্তাদের বিচারিক দায়মুক্তি বাতিল করে আইপিএস অফিসারদের ডেপুটেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা প্রদান করছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি: সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং অপারেশনাল বা পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই পাঁচটি প্রধান সিএপিএফ-এর প্রশাসন, নিয়োগ ও চাকরির নিয়মাবলীকে এক সুতোয় বাঁধতে এই অভিন্ন আইনি কাঠামো (সিএপিএফ আইন ২০২৬) তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে এই মামলার আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং আগামী ২০ আগস্ট শুনানিতে কেন্দ্র কী সাফাই দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।