নবান্ন থেকে বিমানবন্দর— শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রথীন ঘোষের ঘনঘন সাক্ষাৎ, তুঙ্গে দলবদলের জল্পনা

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে অস্থিরতা যেন থামছেই না। দলের অন্দরে বিধায়ক ও সাংসদদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের খবর দীর্ঘদিনের। এই আবহে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন মধ্যগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। বুধবার বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি হোটেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রথীন ঘোষের রুদ্ধদ্বার বৈঠককে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে উভয় পক্ষই এখনও পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটেছেন, তবুও রথীন ঘোষের এই সাক্ষাৎ নতুন করে দলবদলের জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাঁদের মধ্যে একান্তে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের খবরের পরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের বিধায়কদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এখন বেশ নড়বড়ে।
উল্লেখ্য, রথীন ঘোষের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই সাক্ষাৎ প্রথম নয়। গত জুন মাসের শুরুতে নবান্নে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে এক প্রশাসনিক বৈঠকেও রথীন ঘোষকে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দলবদলের জল্পনা উঠলেও রথীন ঘোষ তা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, শুধুমাত্র নিজের বিধানসভা এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু বারবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই সাক্ষাৎ যে কেবল প্রশাসনিক স্বার্থে নয়, তা এখন তৃণমূলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রথীন ঘোষের মতো একজন বিধায়কের ধারাবাহিক এই বৈঠককে কেবলমাত্র কাজের সূত্রে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ, ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা ও বিধায়ক বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। দলের অন্দরে যেভাবে বিদ্রোহের সুর ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তাতে রথীন ঘোষের এই অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলের কাছে এক বড় সংকেত। তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন ও অস্থিরতা আগামী দিনে দলটির অস্তিত্বের সংকটকেই যেন আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। আপাতত মধ্যগ্রামের বিধায়কের এই রহস্যময় সাক্ষাৎ কোন দিকে গড়ায়, সেই দিকেই নজর রয়েছে রাজ্য রাজনীতির।