২০ অগাস্টের মধ্যে কী হতে চলেছে? শুভেন্দুর লাঞ্চ মিট নিয়ে উচ্ছ্বসিত রচনা-অরূপরা

রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদেরা। রাজ্যসভার ৩ জন সহ মোট ২২ জন সাংসদকে নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অরূপ চক্রবর্তী—প্রত্যেকেই বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। শুধু তাই নয়, তালডাংরার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর বিস্ফোরক দাবি, আগামী দিনে আরও দু’জন নতুন সাংসদ এনসিপিআই শিবিরে যোগ দিতে পারেন!
কী নিয়ে আলোচনা হল বৈঠকে?
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৯ জন লোকসভার সাংসদ। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন প্রতিনিধিরা। জনপ্রিয় সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী অনেক ভাল উপদেশ দিয়েছেন। উনি আমাদের যেভাবে গাইড করেছেন, কর্মসূচি দিয়েছেন, আমরা দারুণ খুশি। আমরা তো অনেকদিন ধরেই ওঁর সঙ্গে আলোচনার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম।”
অন্যদিকে, তালডাংরার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী bangla.aajtak.in-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বৈঠকে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, “খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সুন্দর পরিকল্পনা দিয়েছেন। আগামী ২০ অগাস্টের মধ্যে আমাদের এলাকার কাজের যে প্রশাসনিক সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলির অনেকটাই মিটে যাবে। শুভেন্দু অধিকারী খুব ভালভাবে গাইডও করেছেন।”
দলবদলের জল্পনা ও অরূপের পাল্টা দাবি
সাম্প্রতিক অতীতে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, এনসিপিআই-এর বেশ কয়েকজন সাংসদ নাকি ফের পুরোনো দলে ফিরতে আগ্রহী। এমনকী বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে এনসিপিআই-এর বেশ কয়েকজন সাংসদ নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
তবে অরূপ চক্রবর্তী সেই সমস্ত জল্পনা ও দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্টে তিনি নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করে দাবি করেন যে, দল ছাড়ার তো প্রশ্নই নেই, বরং খুব শীঘ্রই আরও দু’জন নতুন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিতে চলেছেন। যদিও সেই সম্ভাব্য দুই সাংসদের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
তৃণমূল ভেঙে এনসিপিআই গঠনের পর এই প্রথম একসঙ্গে এতজন সাংসদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এমন আনুষ্ঠানিক ও বড় বৈঠক হলো। এর আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বা কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিচ্ছিন্নভাবে দেখা করলেও, মঙ্গলবারের এই বৈঠক এনসিপিআই-এর সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।