হইচইয়ের মাঝে রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ গুরুত্বপূর্ণ বিল! উত্তাল সংসদ চত্বরে বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভ

শাসক দল ও বিরোধী শিবিরের তীব্র হট্টগোল এবং তুমুল শোরগোলের মধ্যেই মঙ্গলবার রাজ্যসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) বিল, ২০২৬’ ধ্বনি ভোটে পাস হয়ে গেল। শুরু থেকেই বিরোধী দলের সাংসদেরা এই বিলটির বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এর প্রবল বিরোধিতা করেন। তবে বিরোধীদের সমস্ত আপত্তি ও স্লোগানকে পাশ কাটিয়ে বিলটি পাস করিয়ে নেওয়া হয়।
বিল পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যসভার অধিবেশন প্রথমে বেলা বারোটা এবং পরে পরিস্থিতির জেরে সময়সীমা বৃদ্ধি করে দুপুর দুটো পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ। মূলত এই হট্টগোলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের জোরালো দাবি। বিরোধীদের তীব্র অভিযোগ ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খোদ সংসদ ভবনের অন্দরে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অধিবেশন কক্ষে আসছেন না। এই বিষয়ে বিশেষ আলোচনার সুযোগ চেয়ে সরব হন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা।
এর পাশাপাশি, বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা অযোধ্যায় রাম মন্দিরের দানপাত্রের অর্থ ও অলংকার চুরির স্পর্শকাতর ঘটনাটিকে সামনে এনে সংসদ চত্বরে তুমুল হইচই শুরু করেন। বিরোধীরা স্লোগান তুলতে শুরু করেন, ‘চান্দা-চোর kaha milenge? BJP ke daftar me।’ রাম মন্দিরের এই চুরির ঘটনার সূত্র ধরে সরাসরি শাসক দল বিজেপিকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন বিরোধী সাংসদেরা।
বিরোধীদের এই আক্রমণাত্মক জল্পনার উপযুক্ত জবাব দিতে আসরে নামেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন যে, বিরোধী সাংসদেরা এই ধরনের স্লোগান ও প্রতিবাদের মাধ্যমে আসলে স্বয়ং ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকেই অবমাননা করছেন এবং তাঁরা মূলত ‘রাম-বিরোধী’। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই বিরোধীরা আরও বেশি ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং পালটা অভিযোগ তোলে যে, বর্তমান দেশে রামের নাম ভাঙিয়ে দেদার লুটতরাজ চালানো হচ্ছে। সবমিলিয়ে বাজেট অধিবেশনের এই পর্বে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ ভবন।