TMC-থেকে বহিষ্কৃত রাজন্যা হালদার কি BJP -তে? জল্পনা উস্কে দিলেন সজল ঘোষ

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) বহিষ্কৃত নেত্রী রাজন্যা হালদারের ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদানের জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। এই জল্পনার মধ্যেই বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সঙ্গে রাজন্যার ফোনালাপ রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে। যদিও সজল ঘোষ এই ফোনালাপে দলবদলের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন।

সজল-রাজন্যার ফোনালাপ: কী কথা হলো?
সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজল ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি রাজন্যাকে ফোন করেছিলেন এই পরামর্শ দিতে যে, টিভির সামনে কান্নাকাটি না করে অভিযোগগুলো পুলিশের কাছে জানানো উচিত। সজল বলেছেন, “আমি ওকে ফোন করেছিলাম। বলেছি, যে অভিযোগগুলো তুমি টিভির সামনে কান্নাকাটি করে করেছো, সেগুলোর বদলে থানায় অভিযোগ করা উচিত। ওকে দীর্ঘদিন ধরে চিনতাম। বিভিন্ন ডিবেটে একসঙ্গে অংশ নিয়েছি। ও বলল, দলকে জানিয়েছে। আমি বললাম, থানায় জানানো উচিত।”

দলবদল নিয়ে সজল ঘোষের অবস্থান
রাজন্যা বা তার স্বামী প্রান্তিকের বিজেপি-তে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে সজল ঘোষ বলেন, “দলে নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। দলে কিছু নিয়মশৃঙ্খলা রয়েছে। কোনো জল্পনার কারণ নেই। দলে নেওয়ার মালিক আমি নই। সেটা দল বুঝবে। আমি দলের একজন সিপাই। ও (রাজন্যা) যদি বলে দলে যোগ দিতে চায়, সেটা আমি দলকে জানাব। দল নিয়ে কোনো কথা হয়নি।”

তবে, এরপরই সজল ঘোষ রাজন্যার প্রশংসা করে বলেছেন, “ওর কথা খুব ভালো, বক্তব্য রাখে ভালো।”

ছবি-বিতর্কে সজল ঘোষের মন্তব্য
সম্প্রতি কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজে ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনার পর রাজন্যা হালদার অভিযোগ করেন যে, AI দিয়ে তার বিকৃত ছবি জুনিয়রদের দেখানো হতো। এই অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক হইচই শুরু হয় এবং তৃণমূলের অন্দরেও বিতর্ক তৈরি হয়। এই প্রসঙ্গে সজল ঘোষ বলেছেন, “AI হোক, বিকৃত হোক বা আসল হোক, ওর উচিত প্রথমে থানায় অভিযোগ করা। এটা নিয়ে দলের (তৃণমূল) লোকের নোংরামি করা উচিত নয়।”

রাজন্যার এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূলের একাংশ তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল, যার পরিণতিতে তাকে ছাত্র পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন সজল ঘোষের সঙ্গে তার ফোনালাপ এবং বিজেপি নেতার মন্তব্য, রাজন্যার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।