ডিজে মামলায় বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের গরহাজির অভিষেক, কড়া পদক্ষেপের পথে সিআইডি

রাজনৈতিক মহলে ফের ডিজে মামলার উত্তাপ। বিধাননগর আদালতের কঠোর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পর পর দু’দিন তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরা দিলেন না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য সিআইডি তলব করলেও, সাংসদের এই বারবার গরহাজিরায় তদন্ত প্রক্রিয়া কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলে বিধাননগর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিআইডি।
সূত্রের খবর, সিআইডির তদন্তকারী আধিকারিক এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সাংসদের দেখা পাননি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের আচরণ করছেন, তা সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার সামিল। এই অসহযোগিতার বিষয়টি আদালতকে জানিয়ে এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানাতে চলেছে সিআইডি।
ঘটনার সূত্রপাত ২৬-এর নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন অভিষেকের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি খোলাখুলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “চার তারিখ বারোটার পরে কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা, কার দিল্লির বাবা তাঁকে বাঁচাতে আসে আমি দেখব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হন, স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। ডিজে তো বাজবেই, আর এমন জোরে বাজবে যে কান ঝালাপালা করে দেব।” এই মন্তব্যের পরই বিতর্কের ঝড় ওঠে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলছে।
মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার অভিযোগ করেন, “আদালত তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু অভিষেক তা মানছেন না। কণ্ঠস্বর পরীক্ষার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি আসছেন না।” অন্যদিকে, অভিষেকের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? আমার মক্কেল স্বীকার করেছেন যে বক্তব্যটি তাঁরই। নিম্ন আদালতের নির্দেশকে আমরা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “অভিষেকের রক্ষাকবচ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না কেন? তাঁকে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে।” আপাতত এই মামলার শুনানি স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী শুক্রবার অতিরিক্ত তালিকায় এই মামলার ফের শুনানি হবে। শাসকদলের প্রভাবশালী সাংসদকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতা এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।