“একজন ধর্ষক শেষ হয়েছে”-বারুইপুর এনকাউন্টারে যা বললেন MLA রত্না দেবনাথ

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুতে এনকাউন্টার নিয়ে চলছে জোর চর্চা। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয় প্রভাসের। এই ঘটনাকে ‘আইনের শাসন’ হিসেবেই দেখছেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। পাশাপাশি, ছেলের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করা প্রভাসের মায়ের সাহসিকতারও প্রশংসা করেছেন তিনি।
আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি এই এনকাউন্টারের সিদ্ধান্তে খুশি। তাঁর কথায়, “আমি মনে করি পুলিশ খুব ভালো কাজ করেছে। একজন ধর্ষক শেষ হয়েছে। পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে হয়েছে। যদি এভাবেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবেই হয়তো আগামী দিনে ছোট্ট মেয়েদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।”
ঘটনার পর সবথেকে বড় চমক ছিল প্রভাসের মায়ের প্রতিক্রিয়া। ছেলে অভিযুক্ত জানার পর থেকেই তিনি কার্যত তাকে ত্যাজ্য করেছিলেন। বুধবার প্রভাসের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরেও তিনি ছেলের মৃতদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, “ও যা কর্ম করেছে, তাতেই ওর মৃত্যু হয়েছে। আমার শান্তি। আমি আর ওর দেহ দেখতে চাই না।”
‘মা হিসেবে তিনি প্রতিবাদী’: রত্না দেবনাথ নিহত প্রভাসের মায়ের এই মানসিক দৃঢ়তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, “এই মা বুকে পাথর রেখে কথাগুলি বলছেন। তাঁর কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু অপরাধের বিরুদ্ধে তিনিও আমাদের মতোই প্রতিবাদী। এই মা সাহসী, তিনি অপরাধী সন্তানের পাশে না দাঁড়িয়ে বিচারের পক্ষেই কথা বলেছেন।”
প্রসঙ্গত, অতীতেই প্রভাসের মা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর ছেলে কথা শুনত না এবং নেশাগ্রস্ত ছিল। সন্তানের অপরাধের দায়ভার যে একজন মা নিতে রাজি নন, তা এই ঘটনায় ফের প্রমাণিত হলো। একদিকে আইনের প্রয়োগ, অন্যদিকে অপরাধী সন্তানের প্রতি এক মায়ের কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বারুইপুর কাণ্ড এখন রাজ্যজুড়ে এক গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।