মেসি-কাণ্ডের পর এবার আইনজীবীদের খুনের চেষ্টার অভিযোগ! আইনি জালে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস

প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার মামলা দায়ের ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আলিপুর থানায় দায়ের হওয়া এই নতুন মামলায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করতে হলে পুলিশকে প্রথমে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। এই মর্মে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জনসমক্ষে অভিযুক্তদের নিয়ে অশালীন আচরণ ও ডিম ছোঁড়ার মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “জনসমক্ষে ঘোরানো ও ডিম ছোঁড়া বন্ধ হওয়া উচিত। অভিযুক্তদের নিয়ে এমন কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আদালত আগামী ১৮ জুন আলিপুর আদালত চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। ওই দিন অরূপ বিশ্বাস আইনজীবীর চেম্বারে উপস্থিত ছিলেন। নির্দেশে আইনজীবীর চেম্বার ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সুরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আলিপুর থানায় এই দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের হয়। অভিযোগ রয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের মদতেই আইনজীবীদের খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর আগে, মেসি-কাণ্ডে অভিযুক্ত থাকাকালীনও অরূপ বিশ্বাসকে বারবার আইনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর আদালতের চাপে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় উপস্থিত হয়েছিলেন।

মেসি-কাণ্ডের পটভূমিটি ছিল গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির নিরাপত্তাকে ঘিরে চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতেই পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং ভিড়ের চাপে মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পল হেনস্থার শিকার হন। এরপরই গ্যালারিতে টিকিটধারী দর্শকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হয়ে যায়। এই ঘটনায় শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার হতে হয়। পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হয়ে শতদ্রু প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেন।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অরূপ বিশ্বাস নিজেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ অরূপ বিশ্বাসের আইনি লড়াইকে এক নতুন মোড় দিয়েছে। এখন দেখার, এই জোড়া মামলার জটিলতায় প্রাক্তন মন্ত্রীর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয় এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।