‘শুধু কুছ কুছ নয়, বহুত কুছ হয়!’ ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় সিনেমা নিয়ে মোদির মন্তব্যে শোরগোল

আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতীয় সিনেমার প্রভাব। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিশ্বজনীন জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরেন। প্রবাসীদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করলেন বলিউডের অন্যতম আইকনিক ছবি করণ জোহর পরিচালিত ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর কথা।

ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতা ব্যাখ্যা করেন। সেখানে ভারতীয় সিনেমার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার দর্শকদের কাছে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিটি আজও অত্যন্ত প্রিয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই ছবির নাম শুনে উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। এই প্রসঙ্গে মোদি মজার ছলে একটি শব্দখেলা (Pun) করেন। তিনি বলেন, “যখন ভারত ও ইন্দোনেশিয়া একসঙ্গে এগিয়ে চলে, তখন শুধু ‘কুছ কুছ’ নয়, ‘বহুত কুছ’ হয়।” তাঁর এই মন্তব্য গোটা হল জুড়ে হাসির রোল তোলে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের বার্তাটিকে আরও শক্তিশালী করে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে নিজের পরিচালিত প্রথম ছবির নাম শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিচালক করণ জোহর। তিনি এই মুহূর্তের ভিডিও ক্লিপটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। করণ লেখেন, “আমাদের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি জাকার্তায় ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর উল্লেখ করেছেন, এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি। ভালোবাসা এমন এক ভাষা, যা সমস্ত ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে যায়। ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক স্তরে এতখানি ভালোবাসা দেওয়ার জন্য এবং আমাদের কাজকে মনে রাখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” করণের এই প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছিল করণ জোহরের পরিচালনায় প্রথম ছবি। শাহরুখ খান, কাজল, রানি মুখোপাধ্যায় এবং সালমান খান অভিনীত এই ছবি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক। মুক্তির প্রায় তিন দশক পরেও এই ছবির সংলাপ, গান এবং চরিত্রগুলি দর্শকদের হৃদয়ে একইরকম টাটকা। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে, যেখানে ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে এই ছবিটি দীর্ঘকাল ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিছক কোনো কথোপকথন নয়, বরং এটি ভারতীয় সফট পাওয়ার বা সাংস্কৃতিক প্রভাবের এক বড় স্বীকৃতি। করণ জোহরের কাছে এটি কেবল ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে ভারতীয় সিনেমা কীভাবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পরবর্তীতে করণের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া এটাই প্রমাণ করে যে, শিল্পের কোনো সীমানা নেই এবং ভালো কাজ সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।