বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মহানগরীসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। হগ মার্কেট থেকে রুবি—একের পর এক এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং বুলডোজার দিয়ে অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।
বুলডোজার মিছিলে নিষেধাজ্ঞা
বুধবার সকালে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কমিশনার সাফ জানিয়ে দেন, “বিজয় মিছিলে জেসিবি বা বুলডোজার ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জেসিবি মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।” মূলত নিউ মার্কেটের হগ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে তৃণমূল অফিস ভাঙার ঘটনার পরেই এই কড়া অবস্থান নিল লালবাজার।
গ্রেফতার ৮০, পুলিশের ওপর কড়া নজর
ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে পুলিশি সক্রিয়তার খতিয়ান তুলে ধরে নগরপাল জানান, এখন পর্যন্ত শহরজুড়ে অশান্তির অভিযোগে ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও। তবে শুধু বিক্ষোভকারী নয়, পুলিশের কোনো আধিকারিকের বিরুদ্ধেও যদি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে, তবে বিভাগীয় তদন্ত ও কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কমিশনারের স্পষ্ট বার্তা, “শান্তি বজায় রাখতে হবে। কোনো গুজব ছড়াবেন না। লালবাজারের কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে।”
রক্তাক্ত বাংলা: প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন
ভোট মিটলেও অশান্তির আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন রাজনৈতিক কর্মী। ৪ মে রাতে বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মী এবং নিউ টাউনে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। যদিও পুলিশের দাবি, নানুরের ঘটনাটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এবং নিউ টাউনের ক্ষেত্রে সংঘর্ষের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই কর্মীর।
মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যে এখনও ৬৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হয়েছে। এছাড়াও ২৪০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং ৪০টি মোটরসাইকেল পেট্রোলিং টিম শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে। বিজয় মিছিলের ক্ষেত্রেও আগেভাগেই পুলিশের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।





