অমৃতসর ও জলন্ধরের সেনা ছাউনি এলাকায় ঘটে যাওয়া জোড়া বিস্ফোরণ নিয়ে এবার ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর মোড় এল। এই ঘটনাকে ‘সামান্য’ এবং ‘বিজেপির নির্বাচনী পরিকল্পনা’ বলে অভিহিত করে সরাসরি গেরুয়া শিবিরের দিকে আঙুল তুললেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “বিজেপি একটি সাম্প্রদায়িক দল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন তারা পাঞ্জাবকে টার্গেট করেছে। রাজ্যে যে ছোট ছোট বিস্ফোরণগুলো ঘটছে, তা আসলে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির প্রস্তুতিরই একটি অংশ।” মানের অভিযোগ, বিজেপি বরাবরই সহিংসতায় উসকানি দিয়ে এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করে।
আনন্দপুর সাহিবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আরও বলেন, “আমি বিজেপিকে এই ধরনের নোংরা কৌশল বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাঞ্জাব একটি শান্তিকামী রাজ্য এবং এখানকার মানুষ সর্বদা বিশ্বের কল্যাণ কামনা করে।” ভগবন্ত মানের দাবি অনুযায়ী, যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করা তাদের পুরনো অভ্যাস।
এই প্রসঙ্গে নবনির্মিত ‘ধর্ম অবমাননা বিরোধী আইন’-এর গুরুত্বও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ এবং সংঘাত উস্কে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা বিজেপি চালায়, তা এই আইনের মাধ্যমে ব্যর্থ হবে। মান স্পষ্ট করে দেন যে, কঠোর আইন কার্যকর হলে কেউ আর রাজনৈতিক নির্দেশে মানহানিকর বা ধর্মীয় উস্কানিমূলক কাজে লিপ্ত হওয়ার সাহস পাবে না। তাঁর অভিযোগ, এই আইনটি সরাসরি বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিপন্থী, তাই তারা আতঙ্ক ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।
বিজেপির মনোভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মান বলেন, “বিজেপি দাবি করছে তারা পাঞ্জাবের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আমি প্রশ্ন করতে চাই, ভোট পাওয়ার জন্য এই ছোটখাটো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কি মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে? পাঞ্জাব অতীতে অনেক খারাপ সময় দেখেছে, আমরা আর সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে চাই না।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে পাঞ্জাবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। একটি বিস্ফোরণ ঘটে জলন্ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) পাঞ্জাব সীমান্ত সদর দপ্তরের বাইরে এবং অন্যটি অমৃতসরের খাসায় সেনা ছাউনি এলাকার কাছে। যদিও কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবে সেনার স্পর্শকাতর এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণগুলো ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক অভিযোগ পাঞ্জাবের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করল।





