দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। গত ছয় দশক ধরে তামিলনাড়ুর মসনদ যারা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে নিয়েছিল, সেই দুই দ্রাবিড় শক্তি— ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-কে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন অভিনেতা বিজয়। তাঁর নবগঠিত দল ‘তামিলনাড়ু ভেট্রি কাঝাগম’ (TVK) ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে থমকে যাওয়ায় এখন শুরু হয়েছে সরকার গঠনের তীব্র নাটক।
সিংহাসন হারানোর পথে স্ট্যালিন
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে কোলাথুর কেন্দ্র থেকে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন নিজের গড় রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। টিভিকে প্রার্থীর কাছে প্রায় ৮,৭০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। শুধু স্ট্যালিন নন, তাঁর মন্ত্রিসভার ১৫ জন দাপুটে মন্ত্রী এই নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। এমনকি চেন্নাইয়ের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয়ী হয়েছে বিজয়ের দল। এই ফলাফল প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, তামিলনাড়ুর মানুষ এবার চিরাচরিত দ্রাবিড় রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে নতুন ভোরের অপেক্ষায় ছিল।
কিংমেকার যখন কংগ্রেস
বিজয় একক বৃহত্তম দল হলেও সরকার গড়তে তাঁর প্রয়োজন আরও ১০টি আসন। এই পরিস্থিতিতে আসরে নেমেছে কংগ্রেস। ৫টি আসন জয়ী কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিজয়কে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে, তবে বদলে দাবি করেছে মন্ত্রিসভায় ভাগ। এআইএডিএমকে-র একাংশও বিজয়ের দিকে ঝুঁকে রয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজয়ের হাত ধরেই ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার কোনো অ-দ্রাবিড় শক্তি তামিলনাড়ুর শাসনের হাল ধরতে চলেছে।
বিজয় নিজে পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লি পূর্ব— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। খুব শীঘ্রই তিনি রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন বলে সূত্রের খবর। এই জয় কেবল বিজয়ের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং তামিল রাজনীতির এক নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।





