বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল কাল, আজ আমবাগান থেকে উদ্ধার যুগলের ঝুলন্ত দেহ! শাহজাহানপুরে চরম পরিণতি

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলায় বুধবার এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা এলাকা। বিয়ের সানাই বাজার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এক প্রেমিক যুগল। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সমাজ ও পরিস্থিতির চাপে পড়ে সম্ভবত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ১৯ বছরের সর্বেন্দ্র এবং ১৮ বছরের নহ্নী। এই ঘটনায় গোটা গ্রাম জুড়ে এখন শোকের ছায়া, আর দুই পরিবারের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাহানপুরের পরৌর থানা এলাকার কুবেরপুর গ্রামে। বুধবার সকালে গ্রামের সাধারণ মানুষ যখন প্রাতঃভ্রমণে বা চাষের কাজের জন্য মাঠের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই তাঁরা গ্রাম থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি আম বাগানে ভয়ঙ্কর দৃশ্যটি দেখতে পান। দেখা যায়, একটি বড় আম গাছের ডাল থেকে দু’টি দেহ ঝুলছে। খবরটি জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে পুলিশ এসে দেহ দু’টি উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবতী নহ্নীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল ৭ মে। প্রতিবেশী জেলা বদায়ুঁর আলাপুর থানা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর সাতপাকে বাঁধার কথা ছিল। বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় ছিল তুঙ্গে, বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনে ভরে গিয়েছিল। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ৬ মে সকালে নহ্নী এবং তাঁর প্রেমিক সর্বেন্দ্র এক সঙ্গে ঘর ছাড়েন এবং চরম পথ বেছে নেন। গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা একে অপরকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন এবং পরিবারের ঠিক করা বিয়ে মেনে নিতে না পেরেই তাঁরা ‘এক সঙ্গে মরণ’ বরণ করে নিয়েছেন।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পরৌর থানার পুলিশ। তারা মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) দীক্ষা ভাওয়ারে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, বা পরিস্থিতির চাপে কেউ তাঁদের বাধ্য করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নহ্নী ছিল তাঁর ছয় ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তাঁর বিয়ের আনন্দের বদলে এখন গোটা গ্রাম শ্মশানপুরীতে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল সমাজ ও পরিবারের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ওপর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy