শিক্ষা দপ্তরের পবিত্রতা কালিমালিপ্ত করে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছে। জেলা শিক্ষা কেন্দ্রের অন্দরে চলা এই সিন্ডিকেট চক্রটি সাধারণ কোনো চুরিতে সীমাবদ্ধ নেই; তারা ঘুষের সংকেত হিসেবে ব্যবহার করত ‘মিষ্টি’, ‘লাড্ডু’ কিংবা ‘মহাকাল প্রসাদ’-এর মতো শব্দ। সম্প্রতি একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট জনসমক্ষে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। খোদ জেলা শাসকের নির্দেশে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
ঘটনার সূত্রপাত ‘জেডএসকে ইঞ্জিনিয়ার ইনফরমেশন গ্রুপ’ নামক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে। যেখানে যুক্ত ছিলেন দপ্তরের প্রায় ১৩ জন ইঞ্জিনিয়ার। ভাইরাল হওয়া চ্যাটে দেখা যাচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ার সন্দীপ জৈন প্রত্যেক সহকর্মীকে ১০০০ টাকা করে চাঁদা তোলার নির্দেশ দিচ্ছেন। অজুহাত হিসেবে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৫ জনের মধ্যে ‘মিষ্টি’ বিতরণ করতে হবে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই ‘মিষ্টি’ আসলে ঘুষের টাকার একটি সাংকেতিক নাম। শুধু তাই নয়, ভোপালে বড় কর্তাদের কাছে ‘মহাকাল প্রসাদ’ পাঠানোর নাম করে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের নজিরও মিলেছে ওই চ্যাটগুলোতে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে ঘুষ নেওয়ার জন্য ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করার মতো দুঃসাহসও দেখিয়েছে অভিযুক্তরা।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে স্কুলের স্বীকৃতি (Recognition) দেওয়া নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, বহু বেসরকারি স্কুলের স্বীকৃতির ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছিল। পরে একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে সেই সব ফাইল একসঙ্গে পাস করিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, প্রতিটি ফাইলের বিনিময়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা কার পকেটে গেছে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
দুর্নীতির জাল আরও গভীরে বিস্তৃত। ছাত্রাবাসের জন্য তোশক কেনা থেকে শুরু করে রুটি তৈরির মেশিন কেনাকাটাতেও ব্যাপক অনিয়ম ও কমিশন খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা লুট করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অভিযোগে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উজ্জয়িনীর কালেক্টর রোশন কুমার সিং। তিনি জানিয়েছেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show-cause) জারি করা হয়েছে। কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা হবে না। দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রশাসনের এই তৎপরতায় এখন রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারা। এই তদন্তের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।





