গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বড় জালিয়াতি! ফোনে মেসেজ এলেও উধাও রিফিল? হানা দিতেই বেরিয়ে এল বিস্ফোরক তথ্য!

রান্নার গ্যাস সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জালিয়াতির কারবার অবশেষে ধরা পড়ল প্রশাসনের জালে। মধ্যপ্রদেশের মাইহার জেলার অমরপতন এলাকার ‘মানসি গ্যাস এজেন্সি’র বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে বড়সড় ব্যবস্থা নিল খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ। সহকারী সরবরাহ কর্মকর্তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির অপারেটর শ্রীমতী বিমলা ভার্মার বিরুদ্ধে ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের ৩/৭ ধারায় অমরপতন থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

বিগত এক মাস ধরে এই গ্যাস এজেন্সির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ক্ষোভ চরমে উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার পরও মাসের পর মাস তা সরবরাহ করা হচ্ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছিল না সুরাহা। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বহু গ্রাহকের মোবাইলে গ্যাস ডেলিভারি হয়ে যাওয়ার ‘সফল’ বার্তা আসলেও বাস্তবে ২০-২৫ দিন পরেও সিলিন্ডার পৌঁছাত না তাঁদের ঘরে। এই ডিজিটাল জালিয়াতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই অতর্কিত হানা দেয় প্রশাসনিক দল।

তদন্তে নেমে একের পর এক অনিয়ম দেখে হতবাক হয়ে যান আধিকারিকরা। প্রথমত, এজেন্সিতে স্টকের কোনো স্বচ্ছ তথ্য সাধারণের জন্য প্রদর্শন করা ছিল না। নিয়ম ভেঙে এজেন্সির দায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেটর বিমলা ভার্মা কার্যক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর পরিবর্তে তাঁর স্বামী সোহনলাল ভার্মা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অফিস চালাচ্ছিলেন। এমনকি সেখানে কর্মরত কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথিও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

তবে সবচেয়ে বড় অনিয়ম ধরা পড়ে গুদামে তল্লাশি চালানোর সময়। নথিতে থাকা সিলিন্ডারের সংখ্যার সঙ্গে মজুত মালের কোনো মিল ছিল না। গুদামের ভেতরে মাত্র ১৫টি ভর্তি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও, বাইরে একটি টিনের ছাউনির নিচে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ১১২টি ভর্তি সিলিন্ডার। এটি কেবল কালোবাজারির ইঙ্গিতই নয়, বরং বিস্ফোরক লাইসেন্সের শর্তাবলী ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy