বাঁকিপুর উপনির্বাচনে বড় চমক! বিজেপির দুর্গে বড়সড় ত্রাস সৃষ্টি করে এগিয়ে গেলেন প্রশান্ত কিশোর

বিহারের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বাঙ্কিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চলা এই নির্বাচনে শাসকশিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বড় ধরনের রাজনৈতিক অঘটন ঘটার ইঙ্গিত মিলছে। জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া প্রশান্ত কিশোর এই আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপিকে জোর টক্কর দিচ্ছেন। প্রাপ্ত সর্বশেষ ভোটের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৬-১৭ দফার গণনার পর জন সুরাজ প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, এই আসনের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সমীকরণ বজায় রাখতে মরিয়া ভারতীয় জনতা পার্টি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশিকা ও ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ এন কলেজের কালা ভবন গণনাকেন্দ্রে ভোট গণনার কাজ চলছে। প্রাথমিক এই ট্রেন্ড সামনে আসতেই জন সুরাজ শিবিরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উল্লাস শুরু হয়ে গেছে। দলের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় বিভিন্ন এলাকার পথচলতি সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণের হিড়িক পড়ে গেছে। প্রশান্ত কিশোরের এই প্রাথমিক অগ্রগতির পর দলের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে জন সুরাজের বিহার রাজ্য শাখার সভাপতি মনোজ ভারতী বলেন, “পরিবর্তনকামী ভোটাররা বাঁকিপুরের মাটিতে প্রশান্ত জি এবং জন সুরাজকে আস্থার প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এটি কেবল একটি উপনির্বাচনের জয় নয়, বরং বিহারের মূলধারার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার উন্মেষ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতাসীন দল এবং প্রশাসন বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও সাধারণ ভোটারদের নীরব সমর্থন তাদের বিজয় নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। অন্যদিকে, এই পিছিয়ে পড়ার পরও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ শাসকশিবির। সাম্প্রতিক সময়ে আরজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিশিষ্ট নেতা মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারি আত্মবিশ্বাসের সুর চড়িয়ে বলেন, “চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে এখনও অনেক রাউন্ড গণনা বাকি রয়েছে। তাই এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বোকামি হবে। আমাদের কর্মীরা শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে এবং আমরা পুরোপুরি আশাবাদী যে শেষ দফার গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থীই এই আসনে জয়লাভ করবেন।” সব মিলিয়ে, আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত বাঙ্কিপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ বজায় থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।